রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি, এনসিপির হট্টগোল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের একাংশ এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা প্রামাণ্যচিত্রে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে হট্টগোল শুরু করেন। এ সময় তাঁরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এখানে নিজেকে জাহির করতে এসেছেন।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ মাইকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে যাঁদের আপত্তি রয়েছে, তাঁদের মঞ্চে এসে মতামত দেওয়ার অনুরোধ করেন।
এরপর এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন মঞ্চে উঠে বলেন, প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্রে অনেক অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি সরকারের নজরে আনা হবে জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, প্রামাণ্যচিত্রে কোনো অসংগতি থাকলে সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। এতে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বলেন, প্রামাণ্যচিত্রে ‘এক দফা’র ঘোষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখানো হয়েছে। অথচ তাঁর দাবি অনুযায়ী, এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন মাহিন সরকার।
পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে মাহিন সরকার লেখেন, রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে প্রামাণ্যচিত্রের প্রতিবাদ করায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রামাণ্যচিত্রে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদের ভূমিকা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। এ নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনামূলক মন্তব্যও করেন।
হট্টগোলের একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম আবার শুরু হয়।
How did this article make you feel?