পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ব্যাংক কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে নির্যাতন, টাকা আদায়ের অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

মামলার বাদী আশরাফুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংকের নওগাঁ শাখার শিক্ষানবিস কর্মকর্তা

প্রতিনিধি বগুড়া
শওকত ইমরান
শওকত ইমরান | ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে তুলে নিয়ে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী দাবি করে আশরাফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন।


রোববার রাতে করা মামলায় এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ৮২ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।


মামলার বাদী আশরাফুল ইসলাম ইসলামী ব্যাংকের নওগাঁ শাখার শিক্ষানবিস কর্মকর্তা। তাঁর বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া এলাকায়।


এজাহারে বাদী আশরাফুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি শনিবার দুপুরের দিকে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের নতুন ভবনের দক্ষিণ ফটক-সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের স্বয়ংক্রিয় টাকা তোলার যন্ত্র (এটিএম বুথ) থেকে কিছু টাকা তুলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনমাথা রেলগেট এলাকায় উড়ালসড়কের নিচে পৌঁছালে এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ অজ্ঞাতনামা চারজন দুটি মোটরসাইকেলযোগে এসে অটোরিকশার গতিরোধ করেন। এরপর জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে পুরান বগুড়ার একটি ছাত্রাবাসে নিয়ে আটকে রেখে জিম্মি করেন। এ সময় মারধর ও নির্যাতন করে অস্ত্রের মুখে ৮২ হাজার টাকা, ২টি মুঠোফোনসহ ইসলামী ব্যাংকের টাকা তোলার কার্ড (এটিএম কার্ড) কেড়ে নেন। পরে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক জবানবন্দি ধারণ করা হয়। তাঁকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে আরও ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না পাঠালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।


এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি নেতা শওকত ইমরান বলেন, ‘আশরাফুল ইসলাম সাবেক শিবির নেতা। তিনি বিভিন্ন নারীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হিসাব (আইডি) খুলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। আমার পরিচিত একজন ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে আশরাফুল ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। তাঁকে ডেকে তাঁর দুটি মুঠোফোন সেট পরীক্ষা করি; তাতে মেয়েদের নামে আইডি লগইন করা পাওয়া যায়। পরে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ২৫ হাজার টাকা তিনি ফেরত দেন।’


শওকত ইমরান আরও বলেন, ‘আশরাফুলের কাছে থাকা দুটি মুঠোফোনে ভুক্তভোগী তরুণের ছবি ছিল। তা মুছে ফেলার জন্য মুঠোফোন দুটি পরে নেবেন বলে রেখে যান। কিন্তু এখন মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। এ সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য–প্রমাণ আমার কাছে আছে।’


এর আগে গত ২৩ মার্চ শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে নাহিয়ান ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন নাহিয়ানের বাবা ও বগুড়া শহরের পিটিআই মোড় এলাকার সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।


এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল বগুড়া নগরের জলেশ্বরীতলা এলাকার এস এম ইমদাদুল হক নামের এক ব্যক্তি শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বাড়ি দখলের অভিযোগ তুলেছিলেন।


দলের নেতার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সম্পর্কে এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ বলেন, শওকত ইমরানের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলার বিষয়টি তদন্তে এনসিপির পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আলী বলেন, এনসিপি নেতা শওকত ইমরানসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বগুড়া সদর ফাঁড়ির উপপরিদর্শক শামিম হোসেনকে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.