পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে?

এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বেছে নেবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও  নজরুল ইসলাম খান
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান | ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন–এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল।


শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি পদে কাকে বেছে নেবে?


রাজনৈতিক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খানের নাম। এ ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া একজন সচিবের নাম রয়েছে সেই তালিকায়। তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, মার্জিত আচরণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নাম বিবেচনায় আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে বিএনপির ভেতরের বিভিন্ন মত ও অবস্থানকে সমন্বয় করে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।


বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘ অসুস্থতা এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকার সময় দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


রাষ্ট্রপতি পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নামও বেশ জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলের নানা রাজনৈতিক সংকট, আন্দোলন ও দুঃসময়ে বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খন্দকার মোশাররফ পরবর্তী সময়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলের ভেতরে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের কারণে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নেতাকে ঘিরে এর আগেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে–এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল। ২০২৩ সালে বগুড়ায় বিএনপির একটি বিভাগীয় সমাবেশেও দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে খন্দকার মোশাররফকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ফলে এবার রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর তাঁর নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


রাষ্ট্রপতি হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নামও রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ড. মঈন খান বিএনপির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি পরিচিত। দলের ভেতরে ও বাইরে তাঁর যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির তালিকায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একজন। দলীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি রাষ্ট্রপতি পদে বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।


রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের নাম আলোচনায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। ফলে এসব নামকে আপাতত রাজনৈতিক আলোচনা ও সম্ভাব্য তালিকা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে। রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা, সরকারের সঙ্গে সমন্বয়, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি—সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.