রায়গঞ্জে বিএনপির এমপির গাড়িতে হামলার অভিযোগ
হামলার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মিছিল করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে শনিবার বিকেলে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা হয়েছে। তিনি উপজেলার ধানগড়া বাজারে একটি সভায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটেছে। হামলায় সংসদ সদস্যের গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি এ ঘটনার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে দায়ী করেছে। হামলার প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচার চেয়ে মিছিল করেছেন বিএনপির নেতা–কর্মীরা।
আয়নুল হক সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য।
সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আলী মর্তুজা বলেন, কোনো কিছু হলেই জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো বিএনপির পুরোনো অভ্যাস। সেই অভ্যাসের কারণেই শনিবারের ঘটনার জন্য মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে দলের অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হবে।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার ধানগড়া বাজারে সভা ছিল। এই সভায় বক্তব্য দেওয়ার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংসদ সদস্য আয়নুল হক চলে যাওয়ার সময় তাঁর গাড়ি আটকে দেন ধানগড়ার কিছু বাসিন্দা। এ সময় হঠাৎ দুর্বৃত্তদের ছোড়া ঢিলে তাঁর গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পুলিশ ও দলের নেতা-কর্মীদের সহায়তায় তিনি গাড়ি নিয়ে চান্দাইকোনার দিকে চলে যান।
এ ঘটনার পর ফয়সাল আহমেদ (সংসদ সদস্যের সফরসঙ্গী) নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি এ হামলার জন্য জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে দায়ী করেন।
সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার খবরে উপজেলা চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। একই সময় ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁদের এলাকায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের দাবিতে মিছিল করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি শনিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
এদিকে সংসদ সদস্য আয়নুল হক তাঁর গাড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান শনিবার রাত নয়টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সংসদ সদস্য আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।