পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

এনসিপিতে আসলে কী হচ্ছে?

এনসিপির দাবি, প্রায় সারা দেশেই নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে পেরেছে তারা। জেলা, মহানগর এমনকি উপজেলা পর্যায়েও কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
বাঁ থেকে সারজিস আলম, আখতার হোসেন, নাহিদ ইসলাম, নাসীরউদ্দীন পাটোওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ
বাঁ থেকে সারজিস আলম, আখতার হোসেন, নাহিদ ইসলাম, নাসীরউদ্দীন পাটোওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ | ছবি: সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরের মধ্যেই দেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করেছে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে সম্প্রতি দলটির ভেতরে ও বাইরে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, আসলে এনসিপিতে কী হচ্ছে?


এনসিপির দাবি, প্রায় সারা দেশেই নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে পেরেছে তারা। জেলা, মহানগর এমনকি উপজেলা পর্যায়েও কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।


প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয় পেয়েছে দলটি। আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবসহ শীর্ষ নেতারা সংসদে গেছেন। দুই সংসদ সদস্যসহ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন দলটির আটজন নেতা-নেত্রী। ইতিমধ্যে নারী, শিক্ষার্থী, যুব, ক্রীড়া ও প্রবাসী জোটসহ একাধিক সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।


দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও জোরেশোরে চলছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে গণমাধ্যমে বিবৃতি ও সংবাদ সম্মেলন করছে দলটি। টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানেও সরব রয়েছেন একঝাঁক নেতা-নেত্রী।


তবে এসব কার্যক্রমের মধ্যেও দলটিতে বারবার অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। কখনো নেতাদের পদত্যাগ, আবার কখনো বহিষ্কারের ঘটনায় সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে এনসিপি। এ সময়ে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে আদর্শগত বিরোধে দল ছেড়েছেন একাধিক শীর্ষ নেতা। চলে গেছেন জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত বেশ কয়েকজন নারী নেত্রী। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য চিকিৎসক তাসনিম জারা ও তাসনূভা জাবীন। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরেক পরিচিত নেত্রী সামান্তা শারমিন। গত ৫ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি পদত্যাগের কথা জানান। এতে এনসিপির জামায়াত-সংশ্লিষ্টতাসহ চারটি কারণ উল্লেখ করেন তিনি।


তবে একাধিক নেতা-নেত্রী দল ছাড়লেও এ সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের নানা ক্ষেত্রের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক যুগ্ম সদস্যসচিব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এনসিপির কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে। তবে বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে হওয়ায় কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য জামায়াতের ছাত্রসংগঠন শিবির থেকে আসায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁদের নিয়ে উদারপন্থী অংশের কিছুটা আপত্তি রয়েছে। আবার দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়েও ভেতরে একধরনের অস্বস্তি আছে। জামায়াতের সঙ্গে এই সম্পর্ক অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দলটিকে ঘিরে নানা তকমা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে না বলে মনে করেন তিনি।


অন্যদিকে, এনসিপির আরেকটি অংশ মনে করে, নতুন দল হিসেবে সংসদ ও রাজপথে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে রাজনৈতিক ঐক্য গড়তে হয়েছে তাদের। এসব কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, দলের ভেতরে অন্য কোনো হিসাব-নিকাশ চলছে কি না।


বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে এনসিপি। এর বাইরে ডান ও বামপন্থী রাজনৈতিক দল থেকে আসা বেশ কয়েকজন নেতা-নেত্রীও এতে যুক্ত হন। চব্বিশের জুলাইয়ে রাজপথে থাকা তরুণদের বড় একটি অংশ এনসিপিতে যোগ দেওয়ায় দলটিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের আভাস পাওয়া যায়।


তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি বার্তা দিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। মূলত ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতের সঙ্গে একই মঞ্চ থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।


তখন কয়েকজন নেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জানান, আদর্শগত কারণে তাঁরা এনসিপির সঙ্গে থাকতে চান না। নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া পদত্যাগের ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।


সর্বশেষ ৫ নভেম্বর আদর্শগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন দলের শীর্ষ নেত্রী সামান্তা শারমিন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য নয় এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।’


এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে পদত্যাগ করেন যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা চিকিৎসক তাজনূভা জাবীন, চিকিৎসক খালেদ সাইফুল্লাহ, হাসান আলী, যুগ্ম সদস্যসচিব চিকিৎসক তাসনিম জারা, মুশফিক উস সালেহীন, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সেলের প্রধান ফরহাদ আলম ভূঁইয়া, সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম প্রধান সংগঠক ইমান সৈয়দ এবং কৃষিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আজাদ খান ভাসানী।


নির্বাচনের পর গত ১৮ মে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম। যদিও এনসিপির দাবি, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


অন্যদিকে, গত ১৫ মে চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মাথায় সংবাদ সম্মেলন করে চার শীর্ষ নেতা প্রথমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে তাঁরা সরে যাওয়ার কথা জানান। পরদিন ১৬ মে সকালে আরও ১৮ জনসহ মোট ২২ জন একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।


পদত্যাগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠার পৌনে দুই বছরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করেছে এনসিপি।


এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসীর মাহমুদকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৬ মে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর এলাহী কাশ্মিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায় থেকেও বেশ কয়েকজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


উগ্রবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত ৮ জুলাই গাজীপুর মহানগর আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকা আতাউল্লাহ শাহকে বহিষ্কার করা হয়।


সর্বশেষ গত ৭ অক্টোবর গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হন মৌলভীবাজার জেলা আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া এবং জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদ।


বিভিন্ন সময়ে পদত্যাগ ও বহিষ্কারের ঘটনায় দলটিতে অস্থিরতা দেখা দিলেও জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখা বেশ কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।


গত ১৯ এপ্রিল দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে ফুল দিয়ে এনসিপিতে যোগ দেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ)-এর আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাতসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৪৭ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে জুনায়েদ ও রিফাত ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।


একই দিন যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সভাপতি রিফাত রশীদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক এবং আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শেহরীন সুলতানা ইরা।


এরপর ২৪ এপ্রিল এনসিপিতে যোগ দেন ঢাকা মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইসহাক সরকার, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল (ফ্লোরা), বিষয়বস্তু নির্মাতা নুরুজ্জামান কাফি এবং রেলের অনিয়ম নিয়ে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন রনি।


সর্বশেষ ৫ নভেম্বর দলটিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ। এনসিপির সূত্র জানায়, ওই নেত্রী জামায়াতের প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।


এনসিপির দুই বছর মেয়াদি আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। তবে এর আগেই গত ২৩ অক্টোবর ১৯৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন বহাল রয়েছেন। কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা নির্বাচিত কমিটি কবে গঠন করা হবে, তা এখনো নিশ্চিত করেনি দলটি। তবে আগামী বছরের যেকোনো সময় কাউন্সিল হতে পারে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।


পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।


১৬ সদস্যের রাজনৈতিক পর্ষদে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব ছাড়াও রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, আতিক মুজাহিদ, আবদুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, মাহমুদা আলম মিতু ও নুসরাত তাবাসসুম।


যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সামান্তা শারমিন (সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন), মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আবদুল হক, মাহবুব আলম, মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল ও এ কে ফ্লোরাসহ আরও কয়েকজন। যুগ্ম সদস্যসচিবের তালিকায় রয়েছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এসএম সাইফ মুস্তাফিজ, মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ।


এ ছাড়া বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় নারী শক্তি, জাতীয় ছাত্র শক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় চিকিৎসক জোট, জাতীয় ক্রীড়া জোট ও প্রবাসী জোট।


কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি কবে গঠন করা হবে, জানতে চাইলে দলের গণমাধ্যম সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সময়ের চাহিদার আলোকেই কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।’


তিনি জানান, সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার জন্য কয়েকটি সম্পাদকীয় পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী বছরের যেকোনো সময় কাউন্সিল ও নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় নাগরিক পার্টির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের উপস্থিতির কারণে দলটির ভেতরে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। একটি পক্ষ ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ডানপন্থী রাজনীতিকে প্রাধান্য দিতে চায়। অন্য অংশটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে চায়। এ কারণে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।


সূত্রগুলোর দাবি, রাজনৈতিক পর্ষদে ডানপন্থীদের আধিক্য থাকায় উদারপন্থী অংশের অনেক মতামতই গুরুত্ব পায় না। বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করায় অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে দল ছাড়ছেন।


তবে এ বিষয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ এমপি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এনসিপি একটি রাজনৈতিক ট্রেন। এতে অনেকেই যোগ দিচ্ছেন। আবার মতবিরোধ হলে যে কেউ চলে যেতে পারেন। কারণ এটি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।’


তাঁর দাবি, ‘যে যা-ই বলুক, প্রতিদিনই এনসিপি সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন অনেকে আসছেন। আর জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য হলেও আমাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্রের আলোকেই কর্মসূচি পরিচালনা করি।’


তিনি আরও বলেন, অতীতে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপিও জোট করেছে। তখন কারও সমস্যা হয়নি। এনসিপিতে কোনো সংকট নেই। দল ছেড়ে চলে যাওয়া প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ যদি প্রভাবশালী নেতা হয়ে থাকেন, তাহলে পদত্যাগের পরপরই তাঁর সমর্থনে আরও অনেক নেতাকর্মীর পদত্যাগ করার কথা। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। তাই বুঝতে হবে, দল ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিরা তেমন প্রভাব বিস্তারকারী ছিলেন না।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.