পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

নরসিংদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৯ দিন পর ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

নিহত ইব্রাহীম মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসভাপতি ছিলেন

প্রতিনিধি নরসিংদী
ইব্রাহীম মাসুম
ইব্রাহীম মাসুম | ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর পলাশে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম মাসুম (৩৬) মারা গেছেন। সোমবার সকাল নয়টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।


১ আগস্ট দিবাগত রাতে হামলায় ইব্রাহীম আহত হন। ঘটনার ৯ দিন পর তাঁর মৃত্যু হলো। এ ঘটনায় ইব্রাহীমের শ্যালক মো. মহসিন ৪ আগস্ট রাতে পলাশ থানায় মামলা করেন।


নিহত ইব্রাহীম মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। নতুন কমিটিতে তিনি সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ডাঙ্গা ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও ছাত্রদল নেতা ইব্রাহীম মাসুম। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোমান মিয়া। তাঁর পক্ষের কর্মী হিসেবে শাহ আলম, আওলাদ, মহসিন, সানি ও সবুজের নাম স্থানীয়ভাবে বলা হচ্ছে।


১ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় একটি বাজারে ইব্রাহীম মাসুমকে আটক করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের কর্মী শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে উভয় পক্ষ এলাকায় মিছিল বের করে পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।


মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে ডাঙ্গা ইউনিয়নের ফকিরবাড়ি এলাকায় একটি মুদিদোকানের সামনে মামুন আহমেদ, জয়নাল আবেদীন, ইব্রাহীম মাসুমসহ ১২ থেকে ১৩ জন অবস্থান করছিলেন। এ সময় রোমান মিয়ার পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলার সময় ইব্রাহীম মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় মামুন আহমেদ, জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন মারধরের শিকার হন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।


গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা ইব্রাহীম মাসুমকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই রাতেই অস্ত্রোপচার করে তাঁর শরীর থেকে একটি গুলি বের করা হয়। অন্য আহত ব্যক্তিদের নরসিংদী ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।


ওই ঘটনায় ইব্রাহীম মাসুমের শ্যালক মো. মহসিন ৪ আগস্ট রাতে পলাশ থানায় মারধরের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।


ইব্রাহীম মাসুমের পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল রোববার রাতে ইব্রাহীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সোমবার সকালে তাঁকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সকাল নয়টার দিকে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।


ময়নাতদন্তের জন্য ইব্রাহীমের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ আল মামুন। তিনি জানান, এ ঘটনায় আগে যে মামলা করা হয়েছিল, সেটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.