পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে ১০০ ভাগ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: রুহুল কবির রিজভী

গণতন্ত্রায়ণের যত আইনকানুনই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না যদি মানসিকতার পরিবর্তন না হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
রাজধানীর তোপখানা রোডে আয়োজিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে ১০০ ভাগ অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন ভারতেও সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, ভারতেও নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ ওঠে। কিন্তু যখন ফলাফল হয়ে যায়, তখন সবাই মেনে নেয়।


রিজভী বলেছেন, ‘সরকার ও বিরোধী দল প্রত্যেকে যদি ভাষা, শব্দ প্রয়োগ ও বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন, তাহলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব গড়ে উঠবে না। গণতন্ত্রায়ণের যত আইনকানুনই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না যদি মানসিকতার পরিবর্তন না হয়।’


সোমবার দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন। ‘২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে প্রভাব’ শিরোনামে যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি ও অধিকার।


বিভিন্ন অনৈতিক কাজে যুক্ত হওয়ায় ৫ আগস্টের পর থেকে এবং গত কয়েক দিন পর্যন্ত অনেক নেতা-কর্মীকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি, কারণ দর্শানোর নোটিশসহ নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংলাপে রিজভী বলেন, ‘এটিও একটা ইতিবাচক অগ্রগতি, আগে তো হয়নি। আগে কোনো রংবাজ বা মাসলম্যান বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙলে বা বিরোধী দলকে প্রতিহত করলে বাহবা দেওয়া হতো। এই প্রথমবার বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান এবং সন্ত্রাস, দখলের সঙ্গে যুক্ত কাউকে ক্ষমা করেনি। যখন একটা দল নিজের নেতা-কর্মীদের শাসনের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, সেই দল তো সঠিক পথে আছে।’


রিজভী বলেছেন, বিরোধী দল অবশ্যই সরকারের তীব্র সমালোচনা করবে। কিন্তু সেই সমালোচনাগুলো হতে হবে গঠনমূলক, পারস্পরিক উপকারী এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। তাহলেই গণতন্ত্রের পথচলা মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ হবে। আর প্রথমে নিজের দিকে তাকিয়ে তারপর অন্যের দিকে তাকাতে হবে। সেটা হবে গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু যদি ক্রমান্বয়ে একতরফা হন...। প্রবাদ আছে—এক হাতে তালি বাজে না। ফলে দুই হাতের বিষয়ে খবর নিয়ে কথা বলতে হবে।


‘সেটার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়’

সংলাপে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘উল্টে দেব, পাল্টে দেব—এ রকম আপত্তিকর কথা আমরা রাজনীতিবিদেরা প্রায়ই বলে থাকি। বলা হয় যেকোনো মূল্যে—ভাই মূল্য তো আপনার যাচ্ছে না, আপনার সন্তান তো ঠিকই ইংল্যান্ড-আমেরিকায় বা ইউরোপে পড়াশোনা করছে। মূল্য তো দেয় নিচের শ্রেণির কর্মীরা, আপনার স্ত্রী-সন্তান তো দিচ্ছে না। ফলে এটা রাজনৈতিক বক্তব্য হলেও এটাও বলা উচিত নয়।’


সরকার, বিরোধী দলের প্রত্যেকে যদি ভাষা, শব্দ প্রয়োগ ও বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকেন, তাহলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংস মনোভাব গড়ে উঠবে না বলে উল্লেখ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রায়ণের যত আইনকানুনই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না যদি মানসিকতার পরিবর্তন না হয়। সুনাম চলে যাওয়ার ভয় থাকলে আইনের শাসন অনেকখানি মান্য হবে।


প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা উন্নত দেশেও হয়। কিন্তু চেয়ারে বসার পর তাঁদের মনটা হয়ে যায় একেবারে নিরপেক্ষ। দু-একটি ব্যতিক্রম যে হয় না, তা নয়। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বেআইনি কাজ বিচারকেরা করেন না।


‘আমাদের দেশে যে ধরনের বিচারক ১৭ বছরে দেখা গেছে, এজলাস থেকে হুমকি দিচ্ছেন, এজলাসে বসেই চেতনা বিক্রি করছেন—সেটার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। সুবিবেচনাপ্রসূত রায় দেবেন, এই মানসিকতার মানুষ বিচারক হবেন, সেটাই কাম্য,’ বলেন তিনি।


সংলাপে অধিকারের পক্ষে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় পরিচালিত নির্বাচনী সহিংসতা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।


রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও সংলাপে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ও মারদিয়া মমতাজ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, এনসিপির সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম, দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আবদুল আলীম, অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসিরউদ্দিন এলান ও তাসকিন ফাহমিনা, ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির প্রকল্প পরিচালক অ্যানাসতাসিয়া এস উইবাওয়া প্রমুখ বক্তব্য দেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.