পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

সিআইডি কার্যালয় ও পল্লবী থানা ফটকে ককটেল বিস্ফোরণ

পুলিশ বলছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
রাজধানীর পল্লবী থানার ফটকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে
রাজধানীর পল্লবী থানার ফটকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে এবং পল্লবী থানার ফটকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাত সাড়ে ৭টার দিকে এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আট থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পরে রাতে মিরপুর ১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা।


এদিকে শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২০ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী ও ভাটারা এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে জোরালো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।


সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে জানতে চাইলে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে মালিবাগ মোড়ের কাছে উড়ালসড়ক থেকে সিআইডি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। সিআইডি কার্যালয়ের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।


পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, দুর্বৃত্তরা উড়ালসড়ক থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে। সেটি থানার মূল ফটকের সামনে বিস্ফোরিত হয়েছে।


এর আগে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ভাটারা থানা এলাকায় ১০০ ফুট সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের পরিবহন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, দুর্বৃত্তরা তাঁদের স্কুলবাসে আগুন দিয়েছে।


পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে মিরপুর ১ নম্বরে সনি সিনেমা হলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সনি হলের সামনে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ততক্ষণে গাড়িটি চলে যায়। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে।


গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১২ নম্বরে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মোটরসাইকেলে এসে দুর্বৃত্তরা বাসের জানালা দিয়ে ভেতরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে বাসের কর্মীদের চেষ্টায় তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।


এরপর শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মহাখালী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বনানী থানার মহাখালী এলাকায়ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।


পুলিশের একটি সূত্র বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিদেশে পলাতক নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীরা এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাড়িতে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আগামীকাল সোমবার দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি দিয়েছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার ঘটনা ঘটছে।


ঢাকায় ধারাবাহিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার পেছনে নাশকতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্য দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (গণমাধ্যম) আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই দলটি নাশকতার উদ্দেশ্যে ও জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে কাজগুলো করছে।’ তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ও একটি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা রয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন ধরনের ভ্রাম্যমাণ দল কাজ করছে।


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গত ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা ও আন্তজেলা পথে চলাচলকারী ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।


এ বিষয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের কাছে চিঠি দিয়েছে সমিতি। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুষ্কৃতকারীরা ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলকারী গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।


এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামীকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কার্যালয়ে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.