সত্যিই কি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়ছেন সালমান?
সালমান খানের ‘গ্যালাক্সি’ থেকে শাহরুখ খানের ‘মান্নাত’—তারকাদের বাড়ি এখন মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ঈদ, বিভিন্ন উৎসব কিংবা জন্মদিনে এই দুই তারকাকে একনজর দেখতে হাজার কিলোমিটার দূর থেকে এখানে ছুটে আসেন ভক্তরা।
বলিউডের ‘ভাইজান’ সালমান খান প্রায় পাঁচ দশক ধরে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছেন। ১৯৭৪ সাল থেকে পরিবারসহ সেখানেই আছেন তিনি। তবে এবার সেই দীর্ঘ অধ্যায়ের ইতি টানার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বান্দ্রাতেই সমুদ্রের কাছাকাছি একটি নতুন ছয়তলা বাড়িতে উঠতে পারেন সালমান ও তাঁর পরিবার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন ভবনটি নির্মিত হবে সালমানের মা সালমা খানের মালিকানাধীন একটি প্লটে।
সম্প্রতি জানা গেছে, বান্দ্রায় ওই ছয়তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন মিলেছে। তবে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে পরিবারের নতুন বাড়িতে যাওয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এমসিজেডএমএ) গত ১৬ জুন নির্মাণপ্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
নতুন ভবনটি গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে অল্প দূরে বান্দ্রার চিম্বাই এলাকায় নির্মিত হবে। আগে সেখানে দোতলা একটি বাড়ি ছিল। তবে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়।
নতুন ভবনে থাকবে একটি গ্রাউন্ড ফ্লোর, স্টিল্ট পার্কিং এবং তার ওপর ছয়টি তলা। ভবনটির মোট নির্মাণ এলাকা হবে ১ হাজার ১৪ বর্গমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সাচ ডেভেলপার্স।
২০২৪ সালে গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে সালমান খানের বাসভবন লক্ষ্য করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়। পাশাপাশি তাঁকে ওয়াই-প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
গত বছর ইটাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালমান জানান, হামলার পর তিনি বাড়িতে বুলেটপ্রুফ কাচসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করেছেন, যাতে কেউ বারান্দা বেয়ে ঘরে ঢুকতে না পারে।
২০১৭ সালে ‘সা রে গা মা পা লিটল চ্যাম্পস’–এর একটি পর্বে সালমান খান বলেছিলেন, বিলাসবহুল বাংলোর চেয়ে বান্দ্রার এই ফ্ল্যাটেই থাকতে তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কারণ, তাঁর মা–বাবা তাঁর ফ্ল্যাটের ওপরের তলায় থাকেন।
সালমান বলেন, ‘শৈশব থেকে একই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরেছি। এই অভ্যাস বদলাতে চাই না। পুরো ভবনটাই যেন একটি বড় পরিবার। ছোটবেলায় সবাই নিচের বাগানে একসঙ্গে খেলতাম। কখনো সেখানেই ঘুমিয়ে পড়তাম। তখন সবার বাড়িই ছিল আমাদের নিজের বাড়ির মতো। যে কারও বাসায় গিয়ে খেয়ে আসতাম। আজও আমি সেই একই ফ্ল্যাটে থাকি। কারণ, এই বাড়ির সঙ্গে অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে।’
How did this article make you feel?