পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

সালমানের মৃত্যু নিয়ে ২৯ বছর পর বিতর্ক, মুখ খুললেন শাবনূর

বিনোদন প্রতিবেদক ঢাকা
সিডনিতে চিত্রনায়িকা শাবনূর
সিডনিতে চিত্রনায়িকা শাবনূর | সৌজন্যে

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর তাঁকে ঘিরে নতুন করে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রিজভী আহমেদ নামের এক ব্যক্তির ‘হয়রানি’, প্রেম ও বিয়েসংক্রান্ত দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলেছেন তিনি। শাবনূরের ভাষ্য, সালমান শাহ তাঁর প্রিয় সহশিল্পী ও বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে শাবনূরের কোনো সম্পর্ক ছিল না।


রোববার অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে শাবনূর এসব কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে কখনো সরাসরি দেখা না হলেও রিজভী কেন এসব দাবি করছেন, সেটিই বুঝতে পারছেন না এই অভিনেত্রী।


শাবনূর বলেন, ‘১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ওই লোককে আমি কখনো সামনাসামনি দেখিইনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমি যুক্তরাজ্যেও যাইনি। অথচ সে দাবি করছে, ওই সময় নাকি আমাদের বিয়ে ও বিচ্ছেদ হয়েছে! তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে হয়নি, হয়তো শুধু “স্বপ্নের বাসর” হয়েছিল।’ কথাটি বলেই কিছুক্ষণ হাসেন তিনি।


সম্প্রতি দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ দাবি করেন, শাবনূর নাকি সালমান শাহকে হয়রানি করতেন। নিজের সঙ্গে শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, শাবনূরকে মনে মনে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আরেক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ২০১৬ সালে নাকি তাঁদের বিয়েই হয়েছিল।


রিজভীর এসব বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাবনূর বলেন, ‘একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে। কখনো বলছে সে রাজসাক্ষী, কখনো বলছে সালমান আত্মহত্যা করেছে, আবার কখনো বানিয়ে বানিয়ে আমার সঙ্গে সম্পর্কের কথা বলছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে বা কারও প্ররোচনায় পড়ে সে এসব মিথ্যা কথা ছড়াচ্ছে।’


সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় ১৯৯৭ সালে রাজসাক্ষী হয়েছিলেন রিজভী আহমেদ। তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। এ জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ও শাবনূরকে দায়ী করেন তিনি।


এ প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, ‘সালমান শাহ আমার প্রিয় সহশিল্পী ছিলেন, বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক ছিল না। এত বছর পর একজন মানুষ একেক সময় একেক কথা বলে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা গল্প ছড়াবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।’


বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টও দিয়েছেন শাবনূর। সেখানে রিজভীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করার পর অনেক অনুরাগী তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। পোস্টটির নিচে হাজারো মন্তব্য জমা পড়েছে।


শাকিল আহমেদ নামের এক অনুরাগী লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ প্রিয় অভিনেত্রী, সত্যটা উপস্থাপন করার জন্য। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।’ শেখ শামীমের মন্তব্য, ‘বিনা পাসপোর্টে বিমান ভাড়া করে যুক্তরাজ্যে যাওয়া কিংবা অবাস্তব সব বিয়ের গল্প ফেঁদে বসা শুনেই বোঝা যায়, এসব নিছক বানোয়াট গালগল্প। এমন অপপ্রচারে বিচলিত হবেন না।’


মোস্তাফিজুর রহমান মানিক লিখেছেন, ‘একজন মানসিক রোগীর কথা বিবেচনায় নেওয়া অবান্তর।’ মারিয়া আকতার নামের আরেক অনুরাগী লিখেছেন, ‘ওই লোকটা মনে হয় মানসিক রোগী। আপনার জন্য শুভকামনা রইল।’


শাবনূরের এই বক্তব্যের দিনই সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি, খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলছে।


সালমান শাহর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। তাঁর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি করেন তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম। রাজধানীর রমনা থানায় করা মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, অভিনেতা ডন হক, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।


সালমান শাহর অকালমৃত্যু এখনো তাঁকে ব্যথিত করে জানিয়ে শাবনূর বলেন, ‘আমি চাই, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হোক। এই ঘটনায় প্রকৃত দোষী যারা, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.