ঢাকার নয় স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, ২ বাসে আগুন: আহত ১ জন
সর্বশেষ রাতে চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও ও মহাখালীসহ অন্তত ৯টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া দুটি স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনায় এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন।
শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ১১টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ রাতে চিটাগাং রোড এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এর আগে রাত ১১টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সামনের সড়কে জোড়া হাতবোমা বিস্ফোরিত হয়। রামপুরা থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বিস্ফোরণের স্থানটি হাতিরঝিল থানা এলাকার অধীনে পড়েছে।
রাত ১০টার পর কাফরুল থানার সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে এতে কেউ হতাহত হননি বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
এর আগে রাত ৯টা ১০ মিনিটে মগবাজার চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ হয় বলে জানান হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। রাত ৭টা ৫৮ মিনিটে বাবুবাজার ব্রিজের নিচের মাজার-সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় বলে জানান বাবুবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মলয় বসির।
তার কয়েক মিনিট আগে, সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানায় ও চৌরাস্তার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। উড়ালসড়ক থেকে দুর্বৃত্তরা এগুলো নিক্ষেপ করে বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। এতে ইবাদুর রহমান নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আহমেদ রাজু জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
একই দিন সন্ধ্যার দিকে মহাখালীর আমতলী মোড়ে উড়ালসড়ক থেকে ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। বনানী থানার পরিদর্শক (অভিযান) এ কে এম মহিন উদ্দিন জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনের পাশের সড়কে আরও একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শের-ই বাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সেখানে শব্দের আলামত মিললেও ককটেলের কোনো অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি।
এর আগে বিকেলে মালিবাগ রেলগেট-সংলগ্ন প্রধান সড়কে তল্লাশিচৌকি চলাকালে উড়ালসড়কের ওপর থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। শাহজাহানপুর থানার ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এ ছাড়া বঙ্গবাজার ও গুলিস্তান এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।