শাহজালাল বিমানবন্দরে অতিরিক্ত মানুষের ভিড়, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
সেখানে ফেরিওয়ালা ও বিভিন্ন সংস্থার দালালদের দৌরাত্ম্যও চোখে পড়েছে।
গত রোববার দুপুর ১২টা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর বহির্গমন পথ এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লাগেজ ও ব্যাগ হাতে মানুষের জটলা। অনেক জায়গায় পথ আটকে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও মোটরসাইকেল রাখা হয়েছে। সেখানে ফেরিওয়ালা ও বিভিন্ন সংস্থার দালালদের দৌরাত্ম্যও চোখে পড়েছে।
বিমান সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিদিন বিদেশগামী যাত্রীর তুলনায় কয়েক গুণ মানুষ সেখানে ভিড় করেন। অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গাড়ি চলাচলের পথ ও ছাউনিযুক্ত প্রবেশপথ এলাকা পর্যন্ত একজন যাত্রীর সঙ্গে কেবল দুজন ব্যক্তি যেতে পারেন।
গাড়ি চলাচলের পথে কথা হয় নড়াইলের বাসিন্দা এনামুল মিয়ার সঙ্গে। বিকেল ৪টায় ইন্ডিগো বিমান সংস্থার একটি উড়োজাহাজে তাঁর সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। এনামুল বলেন, ‘বিমানবন্দরে ঢুকতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই সময় হাতে রেখে দুপুর ১২টার মধ্যে বিমানবন্দরে চলে এসেছি।’
কিশোরগঞ্জ থেকে এসেছেন আসিয়া খাতুন (৬৫)। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ফারুক আলমকে বিদায় জানাতে এসেছেন তাঁরা। তাঁর সঙ্গে আরও আছেন ফারুকের স্ত্রী এবং স্ত্রীর দুই ভাই।
বাংলাদেশ বিদেশে কর্মসংস্থান ও সেবা লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকারিভাবে জর্ডান যাচ্ছিলেন একদল নারী। তাঁদের বিদায় জানাতেও অনেক মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়।
বিমান বাংলাদেশ বিমান সংস্থার সন্ধ্যার একটি উড়োজাহাজে কাতার যাওয়ার জন্য দুপুরে বিমানবন্দরে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি বিমানবন্দরে ঢুকতে পারেননি।
গাড়ি চলাচলের পথে যানজটের পেছনে আরেকটি কারণ ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ও মোটরসাইকেল যত্রতত্র রাখা। যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে তাঁদের সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কয়েকজন ফেরিওয়ালাকেও সেখানে দেখা যায়। তাঁরা আমড়া ও আচার বিক্রি করছেন। গাড়ি চলাচলের পথে ওঠার দুই পাশে সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার সদস্যদের তল্লাশি চৌকি থাকলেও তাঁদের তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ২ কোটি যাত্রী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৯০টি আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ চলাচল করে।
এমন অব্যবস্থাপনা বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এ টি এম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা সংস্কৃতি হয়ে গেছে, একজন বিদেশ গেলে, তাঁকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে ১০ জন হাজির হয়। এমনিতে ঢাকা বিমানবন্দর অতিমাত্রায় জনাকীর্ণ; এর মধ্যে বাড়তি মানুষের চাপ থাকলে অবস্থা আরও খারাপ হয়।’
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘ছাউনিযুক্ত প্রবেশপথ এলাকায় যাত্রীর বাইরে অন্য মানুষজনের চাপের বিষয়ে মাঝেমধ্যে অভিযোগ পাই। বেশি মানুষের জটলার কারণে গাড়ি চলাচলের পথে অনেক সময় ভিড় তৈরি হয়। লোকজনের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা এর অন্যতম কারণ।’ এ বিষয়ে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।