পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

সাভারে কারখানা খোলার কিছু পরই ২০টিতে আবার ছুটি ঘোষণা

পরে আরও কয়েকটি কারখানায়ও ছুটি দেওয়া হয়।

প্রতিনিধি সাভার
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকালে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায়
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার সকালে সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সাভারে পোশাক কারখানা খোলার পর আবারও ২০টিতে ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিনের অসন্তোষের পর রোববার সকালে নির্ধারিত সময়ে কারখানায় হাজির হয়েছেন শ্রমিকেরা। সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় কাজ চলছে। তবে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখায় সেগুলোতে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরে আরও কয়েকটি কারখানায়ও ছুটি দেওয়া হয়।


এদিকে কিছু শ্রমিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবদুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।


দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। কোথাও কোনো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেনি। তবে শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বসে থাকায় কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারখানাও ছুটি দিয়েছে। মোট ২০টি কারখানা ইতিমধ্যে ছুটি দিয়েছে। আরও চারটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে বসে আছেন। কিছু শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাভারের শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সব শ্রমিক কাজে ফিরেছেন। আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যেই কারখানাগুলোকে বেতন পরিশোধ করতে হবে। দেরি হলে আবার আন্দোলনের সূচনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। কারখানার মালিকদের সময়মতো বেতন পরিশোধের জন্য বলা হয়েছে।’


পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবি ও ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।


বেলা পৌনে একটার দিকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন। কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা কাজ না করে বসে থাকায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি আপাতত ভালো।


খায়রুল মামুন আরও বলেন, গত কয়েক দিন শ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়েছিল দুষ্কৃতকারীরা। তারা কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এই সুযোগ তারা যাতে আর নিতে না পারে, সে জন্য ১০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। না হলে দুষ্কৃতকারীরা এটিকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহার করতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.