কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম
চলতি বছরেও উৎপাদনে যাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে
পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ মালবাহী উড়োজাহাজে করে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা চালানটিকে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার রাতে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ মালবাহী উড়োজাহাজটি ঢাকায় অবতরণ করে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ মডেলের একটি বিমানে এই চালান দেশে আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে রূপপুরের জন্য আরও ইউরেনিয়াম দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম সমাবেশ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান দেশে পৌঁছাবে।
রূপপুরের প্রকল্প পরিচালক ড. কবীর হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহিদুল হাসানসহ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউরেনিয়ামের এই চালান গ্রহণ করেন।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, ঢাকা থেকে আসা ইউরেনিয়াম বহনকারী গাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবনা জেলা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলেন। সড়কে যেন যানজটের সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পাবনা-নাটোর-কুষ্টিয়া মহাসড়কে ছোট-বড় যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। ইউরেনিয়াম নিরাপদে পৌঁছানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালেই দেশে পৌঁছায়।
তবে করোনা মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল বলে আলোচনা রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং শুরু হলেও এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরেও উৎপাদনে যাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।