পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ককটেল হামলা, বাসে আগুন ও নতুন উগ্রবাদী সংগঠন ঘিরে আতঙ্ক

সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় আবারও উগ্রবাদ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীতে টানা ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের খবরের মধ্যেই পরিত্যক্ত স্থান থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও ঘটছে। এর মধ্যে একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটকের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তাঁদের একটি অংশ ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামে নতুন সংগঠন গড়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার পরিকল্পনা করছিল। সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় আবারও উগ্রবাদ নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।


তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিকে উগ্রবাদের পুনরুত্থান হিসেবে দেখার মতো কোনো তথ্য এখনো নেই। সম্ভাব্য সব ধরনের তৎপরতার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।


মানবাধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল কয়েকজনকে গ্রেপ্তার বা কিছু বোমা উদ্ধারের ঘটনা থেকেই তাড়াহুড়ো করে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। তবে পরপর কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা, নতুন সংগঠন গড়ার অভিযোগ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।


গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার একটি মসজিদ থেকে ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ। অভিযোগ ওঠে, ধর্মীয় উপাসনালয়ে অবস্থান করে তাঁদের একটি অংশ উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করছিল। পরে তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।


অন্যদিকে, একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার মিরপুর ও মধ্য বাড্ডায় তিনটি বাস এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি পিকআপে আগুন দেওয়া হয়। ওই দিন ও রোববারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।


এসব ঘটনা আলাদা হলেও পরপর দুদিনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগ জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।


রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কয়েকজন ব্যক্তি মসজিদে অবস্থান করে আলোচনা করছিলেন। উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে গোপন তথ্য থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মুঠোফোনের অপরাধতাত্ত্বিক পরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদের পর ১১ জনের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ ইউনিটের হেফাজতে রাখা হয়েছে।


মন্ত্রী আরও জানান, হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের মুঠোফোন বিশ্লেষণ করে ‘ইত্তেহাদুল উম্মাহ’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলার তথ্যাদি পাওয়া গেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের যেকোনো তৎপরতার বিষয়ে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বজায় রাখবে। বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।


উগ্রবাদের অভিযোগে আটকের বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ নতুন কিছু নয়, দীর্ঘদিন ধরেই এটি উদ্বেগের কারণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, গত দুই বছরে এসব গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড কতটা নজরদারিতে ছিল। তবে বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঢালাও বা অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করার পরামর্শ দেন তিনি।


আরেক মানবাধিকারকর্মী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির মনে করেন, শুধু গ্রেপ্তারের ঘটনা থেকেই দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না। এদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা, আর্থিক জোগান ও অনলাইন নেটওয়ার্কের তথ্য তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা জরুরি।


সম্প্রতি রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’ এবং আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত ব্যাগে ‘প্রেশারকুকার বোমা’ উদ্ধার করা হয়। এর আগে সাভারে একটি সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের পর পাশের এক ভাড়া বাসা থেকে একাধিক পাইপ বোমা, রাসায়নিক পদার্থ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। সাভারের ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়া গেছে।


সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্দেশীয় অপরাধ ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। তবে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.