পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

‘বাজারের ব্যাগ ভরে ঘরে ফেরাই দায়’

টমেটো, কাঁচামরিচ, মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দামে আগের মতোই হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
সবজি বাজার
সবজি বাজার | ফাইল ছবি

রাজধানীর বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বাজারে নতুন শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপি আসায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে এই স্বস্তি সীমাবদ্ধ সবজির বাজারেই। টমেটো, কাঁচামরিচ, মাছ, মাংস ও ডিমের চড়া দামে আগের মতোই হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা।


শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।


বাজারে শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া মুলা ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের কেজি ১২০ টাকা হলেও সাধারণ বেগুন পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ টাকায়।


তবে সবজির বাজারের বড় একটি অংশে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। প্রতি কেজি টমেটো ও কাঁচামরিচ ১২০ টাকা এবং গাজর ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও সংকর জাতের শসা যথাক্রমে ৮০ ও ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বরবটি, করলা ও কাঁকরোলের দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


সবজির দামে কিছুটা ছাড় মিললেও মাছের বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। বেশির ভাগ মাছ আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশের দাম উঠেছে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।


মাংসের বাজারেও দাম কমার কোনো খবর নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস কিনতে প্রতি কেজিতে গুনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। আর খাসির মাংসের কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা।


আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস ডিমের বাজারেও স্বস্তি নেই। বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়ছে।


ধুপখোলা বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আল আমিন বলেন, ‘পুরোদমে শীত না নামলেও আগাম সবজি আসা শুরু করেছে। সরবরাহ বাড়ায় শিম ও কপির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। বাজারে পুরোপুরি শীতের সবজি এলে দাম আরও কমবে বলে আশা করছি।’


বাজার করতে আসা গৃহিণী সুমাইয়া আক্তার তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘সবজি কিনতে এসে একটু ভালো লাগল। গত সপ্তাহের চেয়ে দু-একটি পণ্যের দাম কম মনে হচ্ছে। কিন্তু শুধু সবজি দিয়ে তো আর সংসার চলে না। মাছ, মাংস আর ডিমের যে চড়া দাম, তাতে প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে ঘরে ফেরাই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

বাণিজ্য থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.