পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে গ্রামেগঞ্জে মাদকের বিস্তার

প্রতিনিধি পাবনা
মাদককে না বলুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন
মাদককে না বলুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন | ইলাস্ট্রেশন: পদ্মা ট্রিবিউন

শত বছরের বেশি পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পাবনার ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার, জুয়া, চুরি, পকেটমার ও ছিনতাই বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, স্টেশনসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড এবং উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ, বাংলা ও চোলাই মদ সহজেই পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসরও বসছে বলে তাঁদের অভিযোগ।


ভুক্তভোগী পরিবার, সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।


জানা গেছে, চিলাহাটি–পার্বতীপুর–সান্তাহার–দর্শনা রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ঈশ্বরদী জংশন। এই রেলপথের মাধ্যমে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, নীলফামারী ও দর্শনার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। যমুনা রেলসেতুর মাধ্যমে এটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গেও সংযুক্ত। ঈশ্বরদী সীমান্তবর্তী এলাকা না হলেও দর্শনামুখী রেলপথ আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের অংশ। এ ছাড়া স্টেশন থেকে পাকশী, রূপপুর, দাশুড়িয়া, পাবনা সদর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও রাজশাহী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনামুখী রেলপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান ঈশ্বরদীতে আসে। পরে বিভিন্ন কৌশলে সেগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে স্টেশন এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


মাদক কারবারিদের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে মো. মাসুদ মিয়া, শাহআলমসহ কয়েকজন বলেন, ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, যাত্রীরা স্টেশনে নামার পর নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন।


তাঁদের অভিযোগ, পৌরসভার এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে শক্তিশালী মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া ফতেমোহাম্মদপুর, বস্তিপাড়া, মিলপট্টি, কাচারিপাড়া, আড়ামবাড়িয়া ও পাকশীর হঠাৎপাড়া এলাকায়ও মাদক কারবারের বিস্তার ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, জংশন স্টেশন এলাকার আশপাশে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। মাদক ও জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে কিছু কিশোর অপরাধচক্র চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


তাঁদের আরও অভিযোগ, মাদকসেবীদের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রকাশ্যে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি মাদক সেবনের পর পথচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনাও ঘটছে।


এদিকে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ জুন দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি আন্তনগর ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৭৬ বোতল কোডিনযুক্ত সিরাপসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন থানা-পুলিশ। এর আগে ১১ জুন একই ধরনের অভিযানে ১১০ বোতল কোডিনযুক্ত এসকাফ সিরাপসহ আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ২৬ জুন রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।


একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। তাঁর দাবি, সাহাপুর মসজিদ মোড়, মন্ত্রী মোড়, আজিজলতলা, নিশীতলা, সিলিমপুর বাজার, দীঘা, তিলকপুর, রহিমপুর, তিলকপুর সরদার মার্কেট, আওতাপাড়া গার্লস স্কুলের পেছন, আওতাপাড়া বাজার, বাঁশের বাঁধা দোকান এলাকা ও স্কুলপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রির হটস্পট গড়ে উঠেছে। উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর অবস্থাও প্রায় একই বলে তিনি দাবি করেন। এসব বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও কার্যকর পরিবর্তন হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।


ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক কারবারি ও জুয়াড়িরা যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এ বিষয়ে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.