পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

বরিশালে থানায় হামলা, আহত ৬ পুলিশসহ ১২

এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিনিধি বরিশাল
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবে বিক্ষুব্ধরা থানায় হামলা করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক আসামির মৃত্যুর গুজবে বিক্ষুব্ধরা থানায় হামলা করে। এতে পুলিশসহ অন্তত ১২ জন আহত হন। বৃহস্পতিবার বিকেলে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় চুরি ও মাদক মামলার এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া থানায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকির (২৬) নামের এক তরুণকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আগৈলঝাড়া থানার হাজতে রাখা হয়। পুলিশের দাবি, হাজতে থাকা অবস্থায় রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ১১টার দিকে তাঁকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।


দুপুরে এলাকায় রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে শতাধিক নারী-পুরুষ মিছিল নিয়ে থানায় এসে হামলা করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হালিমকে মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।


এই ঘটনায় গুরুতর আহত এএসআই আবদুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্য পুলিশ সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আল আমিন হোসেন ও মেহেদী হাসান।


অন্যদিকে সংঘর্ষে রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮) ও মমতাজ বেগমসহ (৪৭) অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।


রিয়াজের মা নাছরিন বেগম ও বাবা সিদ্দিক ফকির অভিযোগ করেন, তাঁদের ছেলেকে বিনা কারণে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। তাঁদের দাবি, সন্ধ্যা পর্যন্ত রিয়াজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।


হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা শিক্ষানবিস চিকিৎসক সাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, আসামি রিয়াজ ফকির মেডিসিন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তাঁর গুরুতর কোনো আঘাত নেই। তবে মাথায় আঘাত রয়েছে।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, ‘চুরির মামলায় রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হাজতে থাকাকালে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।’ তিনি বলেন, রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়েছেন এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত করেছেন। ঘটনার পর থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.