ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
আবু হানিফা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ বাজারে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. শামছুল হকের কেনা জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আবু হানিফার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামছুল হক বৃহস্পতিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আবু হানিফা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মগটুলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের বৈরাটি গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শামছুল হক ১৯৯৫ সালে মাইজবাগ বাজারে গিয়াস উদ্দিন, মন্নাছ ও আইযুদ্দিনের কাছ থেকে সাফ-কবলা দলিলমূলে জমি কিনে ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আবু হানিফা ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিবের মাধ্যমে সালিস-বৈঠক হলেও কোনো মীমাংসা হয়নি। পরে শামছুল হক ঈশ্বরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন।
মামলা চলাকালে সাত মাস আগে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে আবু হানিফার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। অন্যদিকে, শামছুল হকের আবেদনের ভিত্তিতে ঈশ্বরগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক এ কে জেড আলম শিমুল স্থিতাবস্থার আদেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, ওই আদেশ অমান্য করে আবু হানিফা জোরপূর্বক জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। শামছুল হকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো মীমাংসা হয়নি।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে মাইজবাগ বাজারের দক্ষিণ দিকে নির্মাণাধীন দোকানের সামনে বালুর বিশাল স্তূপ রাখা হয়েছে। এর পশ্চিম পাশে রাজমিস্ত্রিরা ইট দিয়ে ঘর নির্মাণ করছেন। পাশেই বিএনপি নেতা আবু হানিফা ও তাঁর লোকজন পাহারা দিচ্ছেন। প্রায় ১০ শতাংশ জমিজুড়ে দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সংবাদকর্মীরা আসছেন শুনে সামনে এসে নিজের জমির বিষয়ে জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শামছুল হক বলেন, ‘আমি ৩২ বছর আগে জায়গাটি কিনেছি। সেই থেকে ভোগদখলে ছিলাম। ৫ আগস্টের পর আবু হানিফা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার প্রায় ১০ শতাংশ জায়গা দখল করে প্রকাশ্যে দোকানপাট নির্মাণ করছেন। প্রতিবাদ করলেই আমাকে হুমকি দেন। আমি আমার সম্পত্তি ফেরত চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাছে গিয়েও বিচার পাইনি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আবু হানিফা বলেন, বিআরএস মূলে নিজের জমিতে দোকান নির্মাণ করছেন তিনি। কারও সম্পত্তি দখল করেননি এবং কাউকে হুমকিও দেননি।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।