পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ময়মনসিংহে অনশনের পর মধ্যরাতে প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পেলেন ২০ জন, বঞ্চিত দুজন

বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে অনশনে থাকা দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।

প্রতিনিধি ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গতকাল বুধবার বিকেলে
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গতকাল বুধবার বিকেলে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে দিনভর অনশনের পর ২০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। তবে অনশনে থাকা দুজন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, শূন্য পদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলায় ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। অন্য ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত ছিল। তাঁরা গতকাল দিনভর ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনশন করেন।


বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়ার পর দিবাগত রাত ১২টার পর নিয়োগপত্র জারি করা হয়। বাকি দুজনের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। কেন তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলতে পারবে।


ফুলপুর উপজেলার মহদীপুর গ্রামের কাজী অনিক ২০ জনের একজন। সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশ পাওয়ার সময় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে নকশাকার পদেও নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেবেন—এই আশায় সেখানে যোগ দেননি। পরে প্রাথমিকের নিয়োগ না হওয়ায় গতকাল অনশনে বসেন।


তিনি বলেন, ‘আমরা অনশন করায় রাত একটার পর ওয়েবসাইটে নিয়োগপত্র জারি করা হয়। আমরা ২২ জন বঞ্চিত থাকলেও ২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। দুজন বাদ পড়েছে। বৃহস্পতিবার যোগদান করব। অবশেষে নিয়োগ পাওয়ায় ভালো লাগছে।’

ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগবঞ্চিত ২২ জন প্রার্থী আমরণ অনশনে বসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

নিয়োগপত্র না পাওয়া দুজনের একজন গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর গ্রামের জাহিদ হাসান। সকালে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘২০ জন নিয়োগপত্র পেলেও আমি কেন পাইনি, জানি না। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতা ছিলাম না, কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। গতকাল দিনভর শিক্ষা অফিসে জানার চেষ্টা করেছিলাম, কী কারণে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুই জানায়নি।’


অন্যজন ধোবাউড়া সদরের মাশরুর হাসান। উপজেলা মেধাতালিকায় তিনি ২২তম হয়েছিলেন। মাশরুর বলেন, তাঁর উপজেলায় তিনিই একমাত্র নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন। কেন তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা তিনি জানেন না।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.