পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ ও জনবল সংকট

নীতিমালা অনুযায়ী ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্লিনিকে তা মিলছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে কেবল প্যারাসিটামল, মেট্রিল ও খাবার স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকেই প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত নেই। পাশাপাশি জনবল সংকটও প্রকট।

প্রতিনিধি মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার লইয়ারকুল কমিউনিটি ক্লিনিক
মৌলভীবাজারের ভুনবীর ইউনিয়ন এলাকার লইয়ারকুল কমিউনিটি ক্লিনিক | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মৌলভীবাজার জেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ওষুধসংকট, জনবল ঘাটতি এবং সেবাদানে অনিয়মসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর ফলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ১১ লাখ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ।


সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের সাত উপজেলায় মোট ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ক্লিনিকে সপ্তাহে ছয় দিন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী সপ্তাহে তিন দিন এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী বাকি তিন দিন দায়িত্ব পালনের কথা।


নীতিমালা অনুযায়ী ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ ক্লিনিকে তা মিলছে না। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লিনিকে কেবল প্যারাসিটামল, মেট্রিল ও খাবার স্যালাইন পাওয়া যায়। বেশির ভাগ ক্লিনিকেই প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত নেই। পাশাপাশি জনবল সংকটও প্রকট।


সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার শ্রীসূর্য্য কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সিএইচসিপি দায়িত্ব পালন করলেও দুপুর পর্যন্ত কোনো রোগী আসেননি। অন্যদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের লাইয়ারকুল, কাকিয়াছড়া ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের সাইটুলা কমিউনিটি ক্লিনিক এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের সালন কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুরের মধ্যেই বন্ধ পাওয়া যায়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্লিনিক নির্ধারিত সময় মেনে পরিচালিত হয় না। বেলা ২টার মধ্যেই অনেক কর্মী চলে যান। অধিকাংশ ক্লিনিকে সিএইচসিপি ছাড়া অন্য কোনো কর্মীকে দেখা যায় না। সেবা নিতে আসা রোগীদেরও প্রায়ই ওষুধ না থাকার কথা জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।


কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সাবিনা আক্তার বলেন, এক বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকে আগের মতো ওষুধ পাওয়া যায় না। কোনো অ্যান্টিবায়োটিকও নেই। তাই অনেকেই এখন ক্লিনিকে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।


রাজনগর উপজেলার নিদনপুর গ্রামের ফাতিহা বেগম বলেন, আমি আলসারের রোগী। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারি না। গত চার মাস ধরে ক্লিনিকে গিয়েও কোনো ওষুধ পাইনি।


স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম আব্দুন নুর বলেন, আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ওষুধ না পেয়ে তারা খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।


মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শ্যামেরকোনা কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি জান্নাত আরা বেগম বলেন, ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, অনেক সময় আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করছেন।


মৌলভীবাজার জেলা সিএইচসিপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুবেল আহমেদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের জানানো হয়েছে, শিগগিরই ওষুধসংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, আগে আমাদের উপজেলায় তিন কার্টন ওষুধ বরাদ্দ আসত, এখন আসে মাত্র এক কার্টন।


মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হয়। আগের তুলনায় ওষুধের সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি জনবল সংকটও রয়েছে, যা সেবাদানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.