পাবনায় কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির বাড়িতে অগ্নিসংযোগে নিহত ৩
পাবনা জেলা সদরের একটি গ্রামে এক কিশোরীকে (১৫) হত্যার ঘটনায় আসামির বাড়িতে আগুন দিতে গিয়ে দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে দগ্ধ হওয়ার পর গত সোমবার একজন এবং আজ মঙ্গলবার দুজনের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর গ্রামের সুমন শেখ (৩১), পার্শ্ববর্তী নতুন পাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলাম (১৯) ও একই এলাকার সাপু ইসলাম (২০)। সুমন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার মারা যান। সাইফুল ও সাপু ইসলাম ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি ছিলেন; আজ সেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সকালে পদ্মা নদীর চরে কাজ করতে যাওয়ার সময় কয়েকজন কৃষক একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখেন। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশকে খবর দিলে সেখান থেকে ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ওই কিশোরীর ভাই পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় মো. নাঈম (১৮), ইয়াসিন শেখ (১৮) ও এক কিশোরকে। পুলিশ জানায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিরোধের একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাশ উদ্ধারের পরদিন দাফন শেষে ক্ষুব্ধ জনতা আসামি নাঈমের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে প্রতিবেশীদের মধ্যে থাকা এই তিনজন দগ্ধ হন। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় নাঈমের বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি। সুমন শেখের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’