পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

পুকুর দখল নিয়ে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা, ছাত্রদলের বিপরীতে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

প্রতিনিধি রাজশাহী
পুকুর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন ভবানীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর বাগমারা প্রেসক্লাবে
পুকুর দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেন ভবানীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর বাগমারা প্রেসক্লাবে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজশাহীর বাগমারায় ছাত্রদল নেতার ভাড়া নেওয়া পুকুরে মাছ চাষে বাধা ও দখলের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। পুকুরটি দখলমুক্ত করা ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ছাত্রদল নেতা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।


গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাগমারা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি ভবানীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব ডি এম শাহিন, বাগমারা উপজেলা যুবদলের কার্যকরী কমিটির সদস্য শাকিল হোসেন ও উপজেলা যুবদল কর্মী সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে পুকুর দখল ও মাছ চাষে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন।


সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হোসেন বলেন, চলতি বছর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোয়াবাড়ী এলাকার ৩৮ শতকের একটি খাসপুকুর ইজারা নেয় ‘কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’। নাজমুল হোসেন ওই সমিতির কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন। কয়েক দিন পর ডি এম শাহিন ও শাকিল হোসেনের অনুসারী সাইদুর রহমান পুকুরে মাছ ছেড়ে সেটি দখলে নেন। তাঁরা নাজমুলকে পুকুর থেকে সরে যেতে বলেন এবং ভয়ভীতি দেখান।


নাজমুলের দাবি, পুকুরটি দখলমুক্ত করার জন্য তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ সেপ্টেম্বর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে শুনানি করেন। পুকুর দখলের অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শুনানিতে পুকুরটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সাইদুর রহমান পুকুরে আর যাবেন না বলে লিখিতভাবে জানান। এরপরও তিনি পুকুরের দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ। বরং স্বেচ্ছাসেবক ও যুবদলের নেতাদের প্ররোচনায় নাজমুলকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে পুকুরে মাছ চাষ করতে পারছেন না এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব ডি এম শাহিন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগমারা প্রেসক্লাবে। ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ মিনিট পর একই স্থানে সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। সেখানে ডি এম শাহিন, শাকিল হোসেন, সাইদুর রহমানসহ উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নাজমুলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুকুরটি আগে থেকেই সাইদুর রহমানের দখলে ছিল। তিনি পুকুরটি পুনরায় ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। নাজমুলকে ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।


এ বিষয়ে ভবানীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব ডি এম শাহিন বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।


বাগমারার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, পুকুরটি ‘কসবা একতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির’ নামে ইজারা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি করা হয়েছিল। সাইদুর রহমান পুকুরটিতে আর যাবেন না বলে লিখিত দিয়েছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.