পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও
Home / বাংলাদেশ / পশ্চিম রেলের ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়া হবে, বাড়তে পারে ভাড়া
বাংলাদেশ

পশ্চিম রেলের ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়া হবে, বাড়তে পারে ভাড়া

প্রতিনিধি রাজশাহী

প্রতিনিধি রাজশাহী

1 min · 0 words · 37
বাংলাদেশ রেলওয়ে
বাংলাদেশ রেলওয়ে

রাজস্ব ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অনুমোদন চেয়ে রেল সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রেল কর্মকর্তাদের ধারণা, বেসরকারি ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পরিচালনা করা হলে এগুলো লাভজনক অবস্থানে আসবে।


পশ্চিমাঞ্চল রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ট্রেন পরিচালনায় প্রতিবছর বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে, ফলে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। রাজস্ব বাড়াতে ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপকদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এতে যাত্রীভাড়া আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রেনের অভ্যন্তরীণ সেবা, টিকিট পরীক্ষা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবা তদারকির দায়িত্ব পালন করবে। তবে রেললাইন, ইঞ্জিন ও কোচের মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছেই থাকবে।


বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ছয়টি আন্তর্জাতিক, ৬২টি আন্তনগর, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপকদের কাছে ইজারা দিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আয় করছে।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল রেল ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ কোটি ৭৬ লাখ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে প্রতিষ্ঠানটি ৬৪৯ কোটি টাকা আয় করে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। আয় হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) ৮২৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৫৬৬ কোটি টাকা।


রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা ও রাজশাহী-পার্বতীপুর পথের ১০ থেকে ১২টি ট্রেন ধারাবাহিকভাবে লাভজনক। তবে কম ভাড়া, পরিচালন ব্যয় এবং টিকিট ছাড়া ভ্রমণের কারণে বেশির ভাগ মেইল ও লোকাল ট্রেনে লোকসান অব্যাহত রয়েছে। অনেক যাত্রী স্থানীয় পথে টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করেন। কাউন্টার থেকে টিকিট না কিনে তাঁরা ট্রেনের কর্মীদের টাকা দিয়ে যাতায়াত করেন।


পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করলে ব্যয় আরও বাড়বে। এ অবস্থায় ট্রেনগুলো থেকে প্রাপ্ত আয়ের তুলনায় খরচ বেশি হওয়ায় ইজারা দেওয়া লাভজনক বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, লোকাল ট্রেন থেকে কম আয়ের অন্যতম কারণ যাত্রীদের টিকিট কিনতে অনীহা। এ কারণে ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, রাজস্ব বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব মেইল ও লোকাল ট্রেনে নিয়মিত টিকিট পরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। তবে প্রতিটি ট্রেনের পৃথক লাভ-লোকসানের হিসাব রাখা হয় না।


বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব সদর dপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রক্রিয়া শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ট্রেনগুলো ইজারা দেওয়া হবে।


তবে এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন। তিনি বলেন, উদ্দেশ্য যদি কেবল কয়েকজন ব্যবসায়ীর জন্য ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা হয়, তাহলে উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। দেশে বেসরকারিকরণের ফলে প্রায়ই সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়ে যায়।


তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপকেরা যদি লাভজনকভাবে ট্রেন পরিচালনা করতে পারে এবং সরকারকে ইজারা ফিও দিতে পারে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজেই কেন তা করতে পারছে না।


আহমেদ শফি উদ্দিনের মতে, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য জনসেবার মতো রেল পরিবহনকেও একটি অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। উন্নত কর্মী ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে জনবলের ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও দুর্নীতিই রেলওয়ের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে।

Share: Twitter Facebook

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.