পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

তুরাগ নদের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের অভিযোগ

তিনি গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে একটি বার্তা দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
সজীব ওয়াজেদ জয়
সজীব ওয়াজেদ জয় | ফাইল ছবি

রাজধানী ও আশপাশের এলাকা ঘিরে বয়ে চলা তুরাগ নদীতে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাতজন নেতাকর্মীর লাশ ভাসছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুঞ্জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় অভিযোগ করেছেন, তুরাগের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্লট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত জয়ের দাবি, একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ ঘটনাকে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শনিবার সন্ধ্যায় এ নিয়ে একটি বার্তা দেন।


বার্তায় জয় অভিযোগ করেন, গোপন সূত্রমতে, তুরাগ নদীতে ফেলে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের একটি দল শনিবার সারাদিন থেকে এখন অবধি তুরাগ থানায় অবস্থান করছে। যে তিনজন কর্মীর লাশ পাওয়া গেছে তাদের পরিবারের সাথে থানা থেকে যোগাযোগ করে পরিবারকে দিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করানোর জন্য চেষ্টা চলছে। তাঁর এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সংবাদমাধ্যম।


তবে নদীতে লাশ ভাসছে বা লাশ উদ্ধার বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সন্ধ্যায় ভিত্তিহীন দাবি করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। সদরদপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, তুরাগ নদীতে ভাসছে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ, এ ধরণের সংবাদ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে মিথ্যা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। পুলিশ বলছে, একটি মহল এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। যারা এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপর।


এর আগে গত ২২ জুন রাজধানীর তুরাগ এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলের পর থেকেই দলটির সাত নেতাকর্মী নিখোঁজ ছিলেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের তিন জনের লাশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে গত শুক্রবার থেকে ফেইসবুকে ফের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।


চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। আর এর আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতেও। শেখ হাসিনার সঙ্গে প্লট দুর্নীতির মামলায় সাজা হয় জয়ের। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীনও রয়েছে।


এর আগে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকাভুক্তি করে এর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয় তাদের। নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের তরফে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝেমধ্যে মিছিল ও স্লোগানের খবর আসে। গত ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেও এমন মিছিলের খবর আসে। দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করে পুলিশ। ছয় জেলায় সেনা মোতায়েনসহ বিভিন্ন স্থানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামানো হয়। তবে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এরপর সামনে এল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ খবর, যা জোরালো হয় শনিবার।


এ প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা জয় অভিযোগ করেন, সূত্রমতে, বিএনপি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। পরিকল্পনা মতে, পরদিন নিহতদের পরিবারবর্গ দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।


এ বিষয়ে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার এই থানায় কোনো সংস্থার বা বাহিনীর কোনো সদস্য আসেননি। আসার খবরও আমার কাছে নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই সপ্তাহ আগে এক আত্মহত্যার ঘটনা ছাড়া কারো কোনো মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত হয়নি। কোথায় কোনো লাশ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.