প্রতিনিধি সৈয়দপুর

পারলারে সাজে বিয়ের কনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঈদের ছুটিতে নীলফামারী জেলার জনবহুল শহর সৈয়দপুরে বিয়ের ধুম পড়েছে। ঈদে আত্মীয়স্বজনকে একসঙ্গে পাওয়ার সুযোগে গত তিন দিনে শুধু এই উপজেলায় দুই শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদিন একাধিক বিয়ের আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

সৈয়দপুর শহরের কমিউনিটি সেন্টার, বিয়ে নিবন্ধনকারী, বিউটি পারলার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের আগে পবিত্র রমজান থাকায় মুসলিম পরিবারে বিয়ে তেমন একটা হয়নি। কিন্তু ঈদের দুই দিন পর বুধবার, বৃহস্পতি ও শুক্রবার—এই তিন দিনে সৈয়দপুরে দুই শতাধিক বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবছরে এই ঈদে আত্মীয়স্বজন ও চাকরিজীবীরা এলাকায় অবস্থান করায় অনেকে বিয়ের জন্য এ সময়কে বেছে নেন।

এদিকে একসঙ্গে অনেক বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় বেশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বিউটি পারলারগুলো। শহরের দারুল উলুম মোড়ে রূপ এডিশন বিউটি পারলারের মালিক কোহিনুর লিপি বলেন, ‘আমাদের এক দিনে তিন-চারটির অধিক বউ সাজাতে হচ্ছে। এ ছাড়া ছেলেদের মধ্যে শহরের বাইরে যাদের বিয়ে হচ্ছে, সেই বিয়ের মহিলা বরযাত্রীরা মেকআপ করছেন।’

সৈয়দপুরের কামারপুকুর ইউনিয়নের বাবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে তিন দিন ঘুরেও ডেকোরেটর সামগ্রী ভাড়া পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে নিজেই কম দামে কাপড় কিনে কোনোরকমে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করেছি।’ কারচালক বাঁধন মিয়া বলেন, আগামী চার দিন পর্যন্ত বিয়ের ভাড়া রিজার্ভ করা রয়েছে। বেশির ভাগ শহরের মধ্যে বিয়ের ভাড়া রয়েছে। একই দিনে তিন-চারটি বিয়ের আগাম ভাড়াও নেওয়া হয়েছে।

ড্রিমপ্লাস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী তৌহিদার রহমান জানান, আগামী ১০ দিন পর্যন্ত বুকিং রয়েছে শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য। এখানে দিনে ও রাতে আলাদাভাবে বুকিং দেওয়া হয়। অনেকে দিনরাত মিলিয়ে বুকিং নিয়েছে। 

সৈয়দপুর শহরের বিয়ে নিবন্ধনকারী (কাজি) সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিভাবকেরা এখন সরকারি ছুটিতে ছেলেমেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেয়। গত তিন দিনে আটটি বিয়ে নিবন্ধন করেছেন বলে জানান তিনি। তবে বরপক্ষের অনেকে শহরের বাইরে বিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ায় সে রেজিস্ট্রার তাঁদের কাছে থাকছে না। পৌর এলাকায় ছয়জন নিকাহ রেজিস্ট্রারের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার রয়েছেন। সব মিলিয়ে উপজেলায় গত তিন দিনে দুই শতাধিক বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সৈয়দপুর জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, ‘ঈদের পর দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ১৪টির বেশি বিয়ের দাওয়াত পেয়েছি। একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান থাকায় দাওয়াত রক্ষা করাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু জনপ্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য হলেও উপস্থিত থাকার চেষ্টা করছি।’