প্রতিনিধি রাজশাহী
![]() |
বিএনপির পতাকা |
রাজশাহীতে বিএনপির রাজনীতির রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। দলটির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত এই শহর। তবে গত ১৮ বছর ধরে নানা বাধা–বিপত্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এখানকার নেতা–কর্মীদের। অনেক সময়ই থাকতে হয়েছে দৌড়ঝাঁপে। তবে ২০২২ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, রাজনীতির মাঠে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠে বিএনপি। কিন্তু নতুন করে দেখা দেয় নেতৃত্বসংক্রান্ত সংকট। মহানগর বিএনপিতে শুরু হয় বিভাজন, গড়ে ওঠে তিনটি ভিন্নমুখী নেতৃত্বধারা।
এর একটি ধারায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির দেওয়া মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা এবং সদস্যসচিব মামুনুর রশিদ। দ্বিতীয় একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন একই কমিটির চার যুগ্ম আহ্বায়ক—দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদীন ও ওয়ালিউল হক। আর তৃতীয় গ্রুপটি গড়ে তুলেছেন কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও শফিকুল হক মিলন, যাঁরা দলীয় কর্মসূচিগুলো আলাদাভাবে পালন করে যাচ্ছেন।
এই বিভক্ত অবস্থায় মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে গত ১৭ মার্চ তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে—মিনু, বুলবুল ও মিলন—‘দলের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির’ অভিযোগে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি ঘিরে দলে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। অনেক নেতার মতে, মহানগর কমিটির এ ধরনের চিঠি দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে মহানগর কমিটির নেতারা বলছেন, তাঁরা কেন্দ্রের নির্দেশেই এই চিঠি দিয়েছেন। এই অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ৮ এপ্রিল নগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। আহ্বায়ক হন বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা, সদস্যসচিব হন মামুন অর রশিদ এবং একই সঙ্গে সাতজন যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়, যাঁদের মধ্যে ছিলেন নজরুল হুদা, দেলোয়ার হোসেন, ওয়ালিউল হক, আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম, বজলুর রহমান ও জয়নাল আবেদীন। ২০২২ সালের ৫ মার্চ ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর থেকেই মহানগর বিএনপির ভেতরে বিভক্তি প্রকট হয়ে ওঠে।
এই বিভক্তির ফলে রাজশাহীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় তিন নেতা—মিনু, বুলবুল ও মিলন—দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। যেমন, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ ভুবনমোহন পার্কে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দোয়ার আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কিন্তু সেখানে ওই তিন কেন্দ্রীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এর আগেও ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগর বিএনপি আয়োজিত বিভাগীয় শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সেখানেও ওই তিন নেতা ছিলেন অনুপস্থিত।
২৪ অক্টোবর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নগরীর সাত থানায় আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এর পর চার যুগ্ম আহ্বায়ক—দেলোয়ার হোসেন, আসলাম সরকার, জয়নাল আবেদীন ও ওয়ালিউল হক—একটি পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের খবর পৌঁছে যায় কেন্দ্রে। পরে আবদুস সালাম এসে সমঝোতা করেন এবং পাল্টা কমিটির আহ্বায়কদের নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করে পুনর্গঠন করা হয়।
এই নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘যাঁরা এখন মহানগরের নেতৃত্বে আছেন, তাঁরা কোনো কর্মসূচিতে আমাকে আমন্ত্রণ জানান না। তাঁরা এখন ভূমিদস্যুতা, মারামারি, চাঁদাবাজি—এসব নিয়ে ব্যস্ত।’
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মামুন অর রশিদ বলেন, ‘মিনু ভাই আমার বড় ভাই। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন, তা সত্য নয়।’