নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার (বাঁয়ে) এবং পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ | ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের বিরতির পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসেই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ ঢাকা সফরে আসছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ এপ্রিল ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হবে। এতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন এবং পাকিস্তানের পক্ষে আমনা বালুচ নেতৃত্ব দেবেন। এরপর ২২ এপ্রিল পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃষি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করতে বিশেষ কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে পাকিস্তানকে।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সর্বশেষ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ২০১০ সালে ইসলামাবাদে। তাই এবারের বৈঠকে পুরনো সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিগুলোর অগ্রগতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ পাকিস্তানের কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, আটকে পড়া পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন এবং সম্পদের হিস্যা চাওয়ার মতো বিষয়ে সমাধান দাবি করে আসছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব অনিষ্পন্ন বিষয় সমাধান না হলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিধান্বিত থাকবে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনের সময় এবং ডিসেম্বরে ডি-৮ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়ে বাংলাদেশের কড়া অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। তিনি বলেন, 'বিষয়গুলো বারবার আলোচনায় আসছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এসব সমস্যা চিরতরে মীমাংসা করা প্রয়োজন।'

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাও অনেকাংশে কমেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের 'ফ্লাই জিন্নাহ' নামে একটি লো-কস্ট এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে যাত্রী পরিবহনের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ সহজ করবে।

বাংলাদেশ চায়, পাকিস্তান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-সম্পর্কিত অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান করুক, যাতে ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়া যায়।