প্রতিনিধি ঝালকাঠি

ঝালকাঠি শহরে সোনার দোকান লুট করতে এসে একদল দুর্বৃত্ত ককটেল বিস্ফোরণ ঘটালে জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়। রোববার সন্ধ্যায় শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঝালকাঠি শহরে পিকআপে চড়ে একদল দুর্বৃত্ত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সোনার দোকানে ডাকাতির চেষ্টা করেছে। এ সময় তারা কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে। রোববার ঠিক ইফতারের সময় শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঝালকাঠি শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় শতাধিক সোনার দোকান রয়েছে। সেখানে আজ ইফতারের সময় পিকআপে করে আসা একদল তরুণের বোমাবর্ষণে ব্যবসায়ী ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়; দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন সাধারণ মানুষ। এ সময় দুর্বৃত্তদের পাল্টা ধাওয়া দেন কিছু মানুষ। ধাওয়া খেয়ে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে নিল রঙের পিকআপে শহরের সাধনার মোড় ও ফায়ার সার্ভিস মোড় হয়ে পালিয়ে যায় দলটি।

এ সময় ঝালকাঠি জেলা পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায় নিজের সরকারি গাড়ি নিয়ে পিকআপটিকে কিছু দূর পর্যন্ত ধাওয়া করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা ঢাপঢ় পুলিশ লাইনসের সামনে ও বরিশাল–ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের ষাইটপাকিয়া এলাকায় বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বরিশালের দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় ডাক্তারপট্টির মাহমুদুল হোসেন, ঝালকাঠি জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে পুলিশ সদস্য জুয়েল মিয়া, পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সারোয়ার হোসেন মোল্লা, ষাটপাকিয়া এলাকায় পুলিশ কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম ও অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশু আহত হয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইফতারের সময় শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় নীল রঙের পিকআপে চড়ে চার থেকে পাঁচজন তরুণ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কয়েকটি সোনার দোকানে লুটের চেষ্টা করে। এ সময় সোনা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তাদের ধাওয়া দেন। দুর্বৃত্তরা এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে; ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পালানোর সময় ওই পিকআপ থেকে পথে পথে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। যেসব জায়গায় ককেটলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে সেসব জায়গায় কয়েকজন করে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ষাটপাকিয়া এলাকায় লোকজন দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তখনো কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা বরিশালের দিকে চলে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, লুটের উদ্দেশ্যে একদল তরুণ নিল রঙের পিকআপে চড়ে ডাক্তারপট্টির একাধিক সোনার দোকানে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে জনতার প্রতিরোধে তারা পালিয়ে যায়।

বিমল কর্মকার নামের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী বলেন, সন্ধ্যায় ইফতারের মুহূর্তে ডাক্তারপট্টি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত পিকআপে করে এসে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতি সৃষ্টি করে প্রথমে মা কালী জুয়েলার্সে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। তবে স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে তারা ষাটপাকিয়া হয়ে বরিশালের দিকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে দলটির নেতা–কর্মীরা ঘটনাস্থলে একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় শাহাদাৎ বলেন, এটা ডাকাতির চেষ্টার কোনো ঘটনা নয়। এটা সম্পূর্ণ পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের কাজ। তারা শান্ত ঝালকাঠি শহরকে অশান্ত করার পাঁয়তারার চেষ্টা করছে।

ঘটনার পর সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। পুলিশের পাশাপাশি তারা অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, এটি ডাকাতি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা। এটি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। যাতে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে।