প্রতিনিধি বরিশাল

ছাত্রদল নেতা আসাদ উল্লাহ | ছবি: সংগৃহীত

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সালাম মৃধা ও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন ফরাজীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিয়ামতি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো. আসাদ উল্লাহ খানের দুই হাত কুপিয়ে ‘প্রায় বিচ্ছিন্ন’ করার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আজ রোববার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁদের বহিষ্কার করার তথ্য জানানো হয়।

রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন জমাদ্দার বলেন, দলের ফেসবুক পেজে এ–সংক্রান্ত চিঠি পোস্ট করে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য বরিশাল দক্ষিণ জেলার আওতায় বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সালাম মৃধা ও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন ফরাজীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার রাত ৯টার দিকে বাকেরগঞ্জের নিয়ামতি বন্দরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আসাদ উল্লাহ খানকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। স্বজনেরা জানান, সন্ত্রাসীরা ছাত্রদল নেতা আসাদ উল্লাহকে নির্মমভাবে কুপিয়ে তাঁর দুই হাত ‘প্রায় বিচ্ছিন্ন’ করে দেয়। দুই পায়ের রগ কেটে ফেলে এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে গুরুতর জখম করে। পরে আসাদ উল্লাহকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর)।

ছাত্রদল নেতা আসাদ উল্লাহর ওপর হামলার পর তাঁর স্বজনেরা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে নিয়ামতি বন্দরে নিজেদের ফলের দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার সময় নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন ফরাজী ও তাঁর ভাই সোহেল ফরাজীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসাদ উল্লাহর ওপর হামলা চালান।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন ও সোহেল ফরাজীর মুঠোফোনে ফোন করা হলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। নিয়ামতি বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘটনার পর থেকেই শাহীন ও অভিযুক্ত অন্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।