প্রতিনিধি শরীয়তপুর
শরীয়তপুরে ডাকাত সন্দেহে আরেক ব্যক্তিকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পুলিশ পাহারায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
শরীয়তপুরে ডাকাতি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনসাধারণের পিটুনিতে দুজন নিহত হওয়ার পর আজ শনিবার সকালে আরও একজনকে পিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
ডাকাত সন্দেহে একই জায়গায় এ নিয়ে আটজনকে পিটুনি দিল জনতা। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শরীয়তপুরে একজনকে ও ঢাকায় পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গতকাল শুক্রবার রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে। পুলিশ বলছে, ডাকাতি করতে গিয়ে পালানোর সময় স্থানীয় জনতার রোষানলে পড়ে পিটুনির শিকার হয় একদল ডাকাত। এ সময় ডাকাত দলের এলোপাতাড়ি গুলিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আটজন আহত হন।
পিটুনিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো জানাতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের পরিচয় শনাক্তের জন্য হাত ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ তদন্ত বিশ্লেষণ শাখা। তবে ডাকাত দলের আহত চার সদস্যদের পরিচয় জানতে পেয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন মুন্সিগঞ্জের কালিয়ারচরের মো. রিপন (৪০), বাংলাবাজার এলাকার রাকিব গাজী (৩০), শরীয়তপুরের জাজিরার কুণ্ডেরচর এলাকার আনোয়ার দেওয়ান (৫০) ও মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকার সজীব (৩০)।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পুলিশ ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার বরাতে জানা যায়, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রাজারচর এলাকায় কীর্তিনাশা নদীতে বাল্কহেডে করে ডাকাতি করতে আসে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল। তখন ওই এলাকার নৌযানের শ্রমিকেরা ও স্থানীয় জনতা ডাকাত দলকে ধাওয়া করেন করে। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি, ককটেল, বোমা ছুড়ে স্পিডবোটে করে কীর্তিনাশা নদী দিয়ে পালাতে থাকে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীয়তপুরের দাদপুর এলাকা থেকে ডোমসার তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কীর্তিনাশা নদীর দুই তীরে ও নদীতে নেমে স্থানীয় লোকজন ডাকাতদের ধাওয়া করেন। তখন ডাকাত দলের সদস্যরা জনতার ওপর গুলি ও ককেটেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে ডোমসার তেঁতুলিয়া এলাকায় নদীতে স্পিডবোট ফেলে একটি ইটভাটায় পালায় ডাকাত দলের সদস্যরা। স্থানীয় জনতা ওই ইটভাটা ঘেরাও করে ডাকাত দলের সাত সদস্যকে আটক করে পিটুনি দেয়। পিটুনিতে ডাকাত দলের দুই সদস্য মারা যায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় মানুষদের সরিয়ে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন।
আজ সকালে তেঁতুলিয়া এলাকার ওই ইটভাটা থেকে আরেক ব্যক্তিকে আটক করে জনতা পিটুনি দেয়। পরে সকাল নয়টার দিকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে একটি কক্ষে পুলিশের পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে। পিটুনির শিকার ওই ব্যক্তির নাম রাকিব গাজী। তিনি মুন্সিগঞ্জের বাংলাবাজার এলাকার বাসিন্দা।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ডাকাতি করে পালানোর সময় যে দুই ব্যক্তি পিটুনিতে নিহত হয়েছে, তাদের পরিচয় শনাক্তে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করছি। আর আহত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যে চারজনের পরিচয় মিলেছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, পরিচয় সঠিক কি না। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। ওই ঘটনায় মামলা হবে। স্থানীয় লোকজন মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।’