নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন ছাত্রসংগঠন ঘোষণার প্রাক্কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নতুন ছাত্রসংগঠন ঘোষণার প্রাক্কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় মধুর ক্যানটিনে সংগঠনটি আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের না রাখায় তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়ার জন্য তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে মধুর ক্যানটিনের ভেতরে এবং বাইরে হট্টগোল করে।

তাঁদের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্মুখ সারির সমন্বয়ক রিফাত রশিদকে কেন্দ্রের মূল চারজনের মধ্যে কেন রাখা হয়নি। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে না রেখে কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ সময় তারা ‘রিফাত রশিদ ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ ‘ঢাবির সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘উত্তরায় বৈষম্য, মানি না মানব না’, ‘প্রাইভেটের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘দুঃসময়ের রিফাত ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

উত্তরা থেকে আসা ইকবাল হাসান বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানে উত্তরায় এক শর ওপর আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাদের কাউকে রাখা হয়নি। কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এ কমিটি মানি না। আমরা আমাদের মূল্যায়ন চাই।’

মঞ্জুরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এখনো উত্তরার পূর্ব ও পশ্চিমে কমিটি দেওয়া হয়নি। তারা এখন নতুন দল ঘোষণা করতে চাচ্ছেন। এটা অবশ্যই বৈষম্য।’

বিক্ষোভকারী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রিফাত রশিদের ভূমিকা আপনারা সবাই জানেন। তাকে প্রকৃত মূল্যায়ন করা হয়নি। যদি তাকে বাদ দিয়ে কোনো কমিটি হয় তা কখনো আমাদের ম্যান্ডেট নিয়ে হতে পারে না।’

বিপরীত দিকে নতুন এ ছাত্রসংগঠনের নেতা–কর্মীরা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘শিক্ষা ঐক্য, মুক্তি মুক্তি’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কির ভেতরে বিকেল ৫টায় মধুর ক্যানটিনের বাইরে থেকে ভেতরে গিয়ে দল ঘোষণা করা হয়। এ সময়ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ঢাবি অংশের নেতা-কর্মীরা তাঁদের আটকে রাখেন।

নতুন ছাত্রসংগঠনের আত্মপ্রকাশের ঘোষণার সময় মধুর ক্যানটিনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষর ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার বিকেলে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

দল ঘোষণা শেষে নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্যাডো এবং মল চত্বরমুখী রাস্তায় মারমুখী হয়ে ওঠেন বিক্ষুব্ধরা। এক পর্যায়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে নারীসহ বেশ কয়েকজনকে আহত হতে দেখা যায়। আহত এক তরুণীকে উদ্ধার করে নিয়ে যান সহযোগীরা।

সংঘর্ষে আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দিন হলের ১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আকিবুল হোসেন, সূর্যসেন হলের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রিয়াজ উদ্দিন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুহাস আলী মিশু। তাঁরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শহীদ মুর্তজা মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ক রেজোয়ান হাসান রিফাত বলেন, ‘আজকে আমাদের কেন্দ্র এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ঘোষণা হয়েছে। এ কমিটি দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেলা-উপজেলার সবার মতামতের ভিত্তিতেই ঠিক করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও এ নিয়ে বহুবার বসা হয়েছে। তারপর আজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নামধারী কিছু দল তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।’

সমন্বয়ক রেজোয়ান হাসান রিফাত আরও বলেন, ‘আমাদের তো এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটিই ঘোষণা হয়নি। তাহলে তারা এখনই কীভাবে বলছে তাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। আর এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা যেতো। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে কারা বিষয়টিকে সাংঘর্ষিক রূপ দিতে চেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি।’

নতুন ছাত্রসংগঠনে পদ নিয়ে এক পক্ষের বিক্ষোভের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন