প্রতিনিধি পটুয়াখালী
![]() |
পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের ফরম কিনতে আসা জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার পটুয়াখালী আইনজীবী সমিতি ভবনে | ছবি: সংগৃহীত |
পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ঘিরে হামলার অভিযোগে বিএনপিপন্থী ১১ আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। হামলার শিকার পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. রুহুল আমিন সিকদার (৩৪) বাদী হয়ে বুধবার রাতে সদর থানায় মামলাটি করেন। এতে বহিরাগত আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন পটুয়াখালী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শরীফ মো. সালাহউদ্দিন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মো. মাহবুবুর রহমান, আইনজীবী মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাস্টার, এস এম তৌফিক হোসেন, মো. আরিফ হোসেন, মো. সাহাবুদ্দিন (সাবু), মো. আরিফুর রহমান, মো. নাজমুল আহসান, মজিবুল হক বিশ্বাস, মো. আবু জাফর খান ও মো. ইমরান হোসেন। মামলায় জেলা জামায়াতের আমির আইনজীবী মো. নাজমুল আহসানসহ দলীয় আটজন আইনজীবীকে সাক্ষী করা হয়।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, ১১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম ক্রয় ও জমা এবং টাকা দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহসাধারণ সম্পাদক, লাইব্রেরি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক ও সদস্য পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্যানেলের আইনজীবীরা মনোনয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দিতে আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় পটুয়াখালী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাহউদ্দিনসহ বাকি আসামিরা বাধা দেন। এরপর তাঁর নির্দেশে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বাদী ও তাঁর সঙ্গে থাকা জামায়াতপন্থী আইনজীবী প্রার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করেন। বাদী এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাঁর পকেটে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন আসামিরা। বর্তমানে তিনি পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মামলার বিষয়ে পটুয়াখালী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শরীফ মো. সালাহউদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ধরেননি।