নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আজ বৃহস্পতিবার সকালেও শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙা চলছে। বুধবার রাত থেকে বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে ছয়টার ছবি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের জেরে বৃহস্পতিবারও সিরিজ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ভাঙচুর বৃহস্পতিবারও চলে। এস্কেভেটর দিয়ে ভবনের সামনের অংশ ভেঙে দেয়ার পর স্থানীয় লোকজন নিজেরাই হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভবন ভেঙে লোহার জিনিসপত্র নিয়ে যান। রাতে ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে গরু জবাই  করে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়। ওই ভবনের সামনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলায় নারীসহ দু’জনকে মারধর করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর গুঁড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাদের বাড়ি, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য নেতাদের ম্যুরালও  ভেঙে ফেলা হয়।

ধানমণ্ডি-৫ নম্বরের লেক পাড়ে অবস্থিত শেখ হাসিনার এক সময়ের বাসভবন সুধাসদনে বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। গতকালও ওই ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। লুটপাট করা হয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। খুলনায় শেখ হাসিনার চাচাতো ভাইদের ‘শেখ বাড়ি, বরিশালে আমীর হোসেন আমুর বাসভবন, সাদিক আব্দুল্লাহ’র বাড়ি, নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি, কুষ্টিয়ায় মাহবুব-উল আলম হানিফের বাড়ি, নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমানদের পুরনো বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়। শেখ হাসিনা পরিবারের নামে করা স্থাপনার নাম মুছে দেয়া হয়।  

ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে যা দেখা গেল: বুধবার রাতে শেখ হাসিনা দলের ফেসবুক পেজে বক্তব্য  দেবেন এই ঘোষণার পর বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকে ছাত্র-জনতা। শুরু হয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। রাত ৯টায় শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হয়। এরপরই মানুষের বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে সেখানে ক্রেন এবং এস্কেভেটর আনা হয়। রাতেই এস্কেভেটর দিয়ে ভবন ভাঙা শুরু হয়, চলে গতকাল দুপুর পর্যন্ত।

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ধরে ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় বাড়িটির সামনের পুরো অংশ। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ভাঙচুরের কাজ চললেও উৎসুক জনতার ভিড় ছিল পুরো সময় জুড়ে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্লোগান দেয়- ‘মুজিববাদের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘মুজিববাদের আস্তানা বাংলাদেশে হবে না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা, ঢাকা’। মোহাম্মদপুর থেকে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে আসা লুনা খাতুন বলেন, সকালে বাসার নাস্তা প্রস্তুত করে সবাইকে অফিসে পাঠিয়ে তারপর এসেছি। ফেরদৌসী নামে আরেক নারী বলেন, বুধবার রাত ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আমি এখানে ছিলাম। বৃহস্পতিবার সকালে আবার এসেছি ইতিহাসের সাক্ষী হতেই। লিটন মোল্লা নামে একজন বলেন, আমরা হাসিনার মতো স্বৈরাচার আর বাংলার জমিনে দেখতে চাই না। রায়হান নামে এক যুবক বলেন, আমি শুধু একা আসিনি। ছেলেমেয়েকে নিয়ে এসেছি। দুইদিন ধরে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় এমন ধ্বংসযজ্ঞ চললেও সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ভূমিকা চোখে পড়েনি। বৃহস্পতিবার দুই দফায় এক যুবক ও এক নারীকে গণপিটুনি দেয়া হয় আওয়ামী লীগের পক্ষে কথা বলার অভিযোগে। দুপুরের পর একদল লোক সেখানে একটি গরু নিয়ে আসেন। বিকালে সেটি জবাই করে রান্নার আয়োজন করা হয়।

এদিকে বুধবার রাতেই ধানমণ্ডি ৫ নম্বর রোডের মাথায় লেকপাড়ের ৫৪ নম্বর বাড়ি সুধাসদনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। আগের দিন রাতে শেখ হাসিনা ও তার স্বামী ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়ার মালিকানার এই সুধাসদনে লাগানো আগুন পরেরদিন বিকাল পর্যন্ত জ্বলছিল। আগুন লাগা ভবনের মধ্য থেকে  যে যা পাচ্ছে লুটে নিয়ে যায় মানুষ।

শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ঘিরে ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের খুলনার আলোচিত শেখ বাড়িতেও বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। বুধবার রাত ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বুধবার রাতে বুলডোজার দিয়ে বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর ডুপ্লেস বাড়ি ভেঙে দেয়া হয়েছে। এর আগে বুধবার রাত দেড়টার দিকে বরিশালের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদিক আবদুল্লাহ’র কালীবাড়ি রোডের বাড়ির নিচতলা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।  বুধবার রাত ১টার দিকে কুমিল্লায় সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের গ্রামের বাড়িতেও অগ্নিসংযোগের পর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের এই তিনতলা বাড়িটি বুধবার রাত ১০টার দিকে ভেকু দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। প্রথমে বাড়ির প্রধান ফটক ও সীমানাপ্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। একইসঙ্গে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি হল থেকে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম মুছে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার রাত ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের চারটি ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে মাগুরা স্টেডিয়ামের সামনে লাগানো শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালেও কালি লেপে ভাঙচুর করা হয়েছে। যশোরে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার সাতটি ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও নামফলক ভাঙচুর করা হয়েছে।

সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকসিংগা মহল্লায় অবস্থিত সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের গ্রামের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।  একইসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সব নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করছেন একদল শিক্ষার্থী। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাটোর শহরে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের (শিমুল) জান্নাতি প্যালেসে আবার আগুন ধরিয়ে  দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুরে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পিরোজপুরে সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল এবং তার ভাই সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। বুধবার রাত ১০টার দিকে সিলেটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাঙচুর হওয়া ম্যুরালটি এক্সাভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের পাঁচটি ম্যুরাল এবং শহরের একটি পাড়ায় থাকা একটি মাজার ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে দেয়া হয়েছে। ভেকু দিয়ে পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতা। বুধবার রাতে ময়মনসিংহ নগরের সার্কিট হাউস মাঠসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। একই রাত ১০টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও নগরের জামালখান এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়।

উল্লেখ করা যায়, বুধবার রাত নয়টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য দলের ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়। বক্তব্যে আগের মতোই তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি কী দোষ করেছি।

তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলবে এই শক্তি তাদের হয়নি। তারা একটি দালান ভেঙে ফেলতে পারবে, কিন্তু ইতিহাস মুছতে পারবে না। পুরো বক্তব্যে জুলাই-আগস্টে হওয়া গণহত্যার বিষয়ে তার কোনো অনুশোচনা ছিল না।

গুঁড়িয়ে দেয়া হলো সেরনিয়াবাত ভবন, আমুর বাড়িতে ভাঙচুর 

বরিশাল থেকে প্রতিনিধি জানান, অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বরিশালের কালীবাড়ী রোডস্থ ‘সেরনিয়াবাত ভবন’। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় ব্যাপক ভাঙচুরের পর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এ বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসানাতের ছেলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ থাকতেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিয়েও ছাত্র-জনতাকে রুখতে পারেনি। এরপর ছাত্র-জনতা হামলা চালায় বগুড়া রোডস্থ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর বাড়িতে। তবে বাড়ির তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও বৈঠকখানা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হামলার চিহ্ন রয়েছে ভবনের জানালা ও দরজায়।

বুধবার রাতে প্রথমে ফেসবুকে ঘোষণা দেয়া হয় সেরনিয়াবাত ভবনে হামলা করার বিষয়ে। সাড়ে ১২টার দিকে ছাত্র-জনতা সেরনিয়াবাত ভবন নামের ওই বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুরের পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেয়।

স্থানীয়রা জানান, সাদিক আব্দুল্লাহ এই ভবনকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। আওয়ামী লীগ-বিরোধী অনেককে এখানে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও এই ভবনে হামলা হয়েছে। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উত্তেজিত জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ ৩ জন নিহত হন।

এরপর উত্তেজিত জনতা হামলা চালায় এক কিলোমিটার দূরে আমুর বাড়িতে। সেখানে গেট ভেঙে কাঠের তৈরি একতলা উঠান ঘরে আগুন দেয়া দেয়া হয়। চারতলা ভবনের কয়েকটি দরজা জানালা ভাঙচুর করা হয়।

পাকুন্দিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে দিল ছাত্র-জনতা 

পাকুন্দিয়া প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসংলগ্ন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের এ ম্যুারালটি ভেঙে ফেলেন উত্তেজিত ছাত্র-জনতা।

বছরখানেক আগে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের এ ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ভবনটি এখনো মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কমপ্লেক্সের মূল গেটের পাশেই টাইলস দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন করা ছিল।

খুলনায় শেখ বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলো ছাত্র-জনতা 

খুলনা থেকে প্রতিনিধি জানান, গণ-অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচার খুলনার ‘শেখ বাড়ি’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। বুধবার রাত ৯টার দি?কে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ-বিরোধী স্লোগান দিয়ে বাড়িটি ভাঙচুর শুরু করে ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর পর্যন্ত চলে এ ভাঙচুর।

গত বছরের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ঠা আগস্টই খুলনায় তার চাচা মরহুম শেখ আবু নাসেরর এই শেখ বাড়িতে হামলা চালায় ছাত্র-জনতা। সেদিন দফায় দফায় ভাঙচুরের পর আগুন দেয়া হয় বাড়িটিতে। ওইদিন খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

ওদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিজ্ঞান ভবনের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। বুধবার মধ্যরাতে বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এ সময় ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এর আগে ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ মিছিল করে। মধ্যরাত পর্যন্ত এ ভাঙচুর চলে। এদিকে গতকাল সকাল ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিএল কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করে।

রাতে খুবি’র মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু হলের সামনে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেখানে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে জুতা নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করে।

কুমিল্লায় বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর, আগুন 

কুমিল্লা থেকে প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লায় সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। বুধবার রাত ১টার দিকে বিক্ষুব্ধরা পেট্রল ঢেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাত ১টার দিকে কুমিল্লা নগরের মুন্সেফবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বাহাউদ্দিনের বাড়ির জানালার গ্রিল ভাঙার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধরা। অনেকে বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালান। পরে পেট্রল ঢেলে বাড়ির কয়েকটি কক্ষে এবং ভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এর আগে ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ওই বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছিল।

রাত ২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লা মহানগরের আহ্বায়ক আবু রায়হান বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক হাসিনা দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পরও আবার কখনো ভিডিও বার্তা, কখনো অডিও বার্তার মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনার এসব অপতৎপরতা দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। তাই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর শেষে বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে। সাবেক এমপি বাহার বছরের পর বছর ধরে কুমিল্লার মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো আওয়ামী লীগের কার্যালয় 

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি জানান, পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলহাজ মোড়ে বিজয় স্তম্ভের পাশে নির্মিত ‘ঘৃণা স্তম্ভ’ও ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের স্টেশন রোডে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় কিছু মানুষ। তারা ‘স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। কিছুক্ষণ পরেই কার্যালয়টি ভাঙা শুরু হয়।

সকালে সরজমিন দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও আশপাশের এলাকা একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলার আহ্বায়ক বরকত উল্লাহ ফাহাদ বলেন, দেশের কোথাও ফ্যাসিবাদের চিহ্ন থাকবে না ইনশাআল্লাহ্‌। ফ্যাসিবাদের শেষ পরিণতি দেখে কেউ যাতে আর ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে সাহস না পায়।

নাটোরে এমপি শিমুলের বাড়িতে আবারো আগুন দিলো ছাত্র-জনতা 

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোর সদর আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাসভবন জান্নাতি প্যালেসে পুনরায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি মিছিল গিয়ে শহরের কান্দিভিটুয়াস্থ তার বাসভবনে আগুন দেয়। এর আগে গত ৫ই আগস্ট সরকারের পতনের পরেই আলোচিত জান্নাতি প্যালেসে আগুন জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এর পরদিন বাড়িটি থেকে আগুনে পোড়া ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শাবিতে ডাস্টবিনে হাসিনার ছবি 

শাবি প্রতিনিধি জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ময়লার ডাস্টবিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের ছবি লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বুধবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাস্টবিনগুলোতে শেখ হাসিনার ছবি লাগিয়ে ‘হাসিনা বিন’ হিসেবে নামকরণ করেছেন শিক্ষার্থীরা। হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন বলে জানিয়েছেন তারা।

সরজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক বিল্ডিং ‘সি’, ‘ডি’, চেতনা একাত্তরের সামনে, ক্যাফেটেরিয়ায় ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টের ময়লার ডাস্টবিনে এসব ছবি সাঁটানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জে শেখ মুজিবের ম্যুরাল-মাজার ভাঙচুর 

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুনামগঞ্জে শেখ হাসিনার ভাষণের প্রতিবাদে গভীর রাতে শহরের বিভিন্ন স্পটে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী-জনতা। এ সময় সুনামগঞ্জ পৌরসভা, ঐতিহ্য জাদুঘর, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, জেলা পরিষদ এবং সদর উপজেলা প্রাঙ্গণে থাকা শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। একই সময়ে শহরের হাছননগরের ডংকা শাহ্‌’র মাজারের স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়।

জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমনদ্দোজ্জা জানান, দেশে ফ্যাসিবাদীদের সব কিছু আমরা ভেঙে দিতে চাই। যেন দেশের কেউ আর এই ফ্যাসিবাদের দিকে অনুপ্রাণিত না হয়।

খুলনায় শেখ বাড়ি গুঁড়িয়ে দিলো ছাত্র-জনতা 

খুলনা থেকে প্রতিনিধি জানান, গণ-অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচার খুলনার ‘শেখ বাড়ি’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। বুধবার রাত ৯টার দি?কে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ-বিরোধী স্লোগান দিয়ে বাড়িটি ভাঙচুর শুরু করে ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর পর্যন্ত চলে এ ভাঙচুর।

গত বছরের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের আগের দিন ৪ঠা আগস্টই খুলনায় তার চাচা মরহুম শেখ আবু নাসেরর এই শেখ বাড়িতে হামলা চালায় ছাত্র-জনতা। সেদিন দফায় দফায় ভাঙচুরের পর আগুন দেয়া হয় বাড়িটিতে। ওইদিন খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।