প্রতিনিধি ফেনী
ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় | ছবি: সংগৃহীত |
ফেনীর দাগনভূঞায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বিকেলে করিমপুর গ্রামের মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটির আহ্বায়ক আকবর হোসেন পক্ষের কম্বল বিতরণের কর্মসূচি ছিল। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির আরেকটি পক্ষ হামলা করে বলে আকবর পক্ষের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ। এ সময় চার-পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঁরা হলেন নুরুল হক (২৯), মো. সায়েদ (১৮), রিয়াজ উদ্দিন (২৮), রেজাউল ইসলাম (৩১), মো. শামীম (৪০) ও সালাউদ্দিন (৩৬)।
আকবর হোসেনের অনুসারীদের অভিযোগ, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জামশেদুর রহমানের কর্মীরা এ হামলা করেন। জামশেদুর রহমান পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুর রহমানের ছোট ভাই। তবে জামশেদুর রহমান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আকবরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে তাঁদের সভায় হামলার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এ ঘটনার পর আজ সন্ধ্যায় সংবাদ করে হামলার জন্য বিএনপির আরেকটি পক্ষকে দায়ী করেছেন আকবর হোসেন। তিনি বলেন, ‘করিমপুর মাদ্রাসা মাঠে দুস্থদের মধে৵ ৫০০ কম্বল বিতরণ করতে গেলে বিএনপি নামধারী সন্ত্রাসীরা হামলা করে। এতে আমার ১০–১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন। এ বিষয় দলীয় ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান বলেন, ‘বিকেলে ওই এলাকায় তাঁদের পূর্বনির্ধারিত মতবিনিময় সভা ছিল। তাঁদের কর্মসূচি আহ্বানের পর আকবরের লোকজন সেখানে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আমাদের ১০–১২ জন নেতা-কর্মী হামলায় আহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ–ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। হামলার প্রতিবাদে আমরা রাত আটটায় বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেছি। আগামীকাল আমরা সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাব।’
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোহরাব তানবীর জানান, বিকেলে বিভিন্ন আঘাত নিয়ে ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত রেজাউল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ‘হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ছয়জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেখানে আমাদের একজন পুলিশ কর্মকর্তা কাজ করছেন। তবে এ বিষয়ে রাত নয়টা পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।’