নিজস্ব প্রতিবেদক
![]() |
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের | ছবি: সংগৃহীত |
সরকার জাতীয় পার্টিকে রাজনীতিতে কোণঠাসা করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈষম্য শুরু হয়েছে। আমাদের স্বাভাবিক রাজনীতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে। সে হিসেবে আমরা নব্য ফ্যাসিবাদের শিকার মনে হচ্ছে।’
বুধবার দুপুরে জাপার চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ে নরসিংদী জেলার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জি এম কাদের এ কথা বলেন।
জি এম কাদের আরও বলেন, দেশ এখন সঠিকভাবে চলছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে, এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে হাহাকার উঠছে। সাধারণ মানুষ আয় দিয়ে ব্যয় নির্বাহ করতে পারছে না। আধপেট খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে। বিভিন্ন কলকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। এককথায় দেশে অভুক্ত ও অর্ধভুক্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিন।
জাপার চেয়ারম্যান বলেন, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়লে তখন যেকোনো অজুহাতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। এতে অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি হলে রাজনীতিতে অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
জি এম কাদের বলেন, বর্তমান সরকার স্বাভাবিকভাবে দেশ চালাতে পারছে না। সরকার চেষ্টা করছে, তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই। কিন্তু তারা সফল হতে পারছে না। তাদের নির্দেশ ও পরিকল্পনা অনেক সময় কার্যকর হচ্ছে না, এটাই বাস্তবতা। তিনি বলেন, এমন বাস্তবতায় দেশে একটি শক্তিশালী সরকার প্রয়োজন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনে যাতে জনগণের ইচ্ছার সঠিক প্রতিফলন হয়, সে ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার ছাড়া এ পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব মনে হচ্ছে না।
জাপার এই নেতা বলেন, দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে যে পথে হাঁটতে হবে, সরকার সে পথে হাঁটছে বলে মনে হচ্ছে না। দেশের ৪০টির বেশি রাজনৈতিক দলের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি দলের সঙ্গে বর্তমান সরকার ঐক্য করছে। এতে দেশের বেশির ভাগ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো থেকে যাচ্ছে আলোচনার বাইরে। জাতীয় পার্টির ওপর নির্যাতনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা বিভাগীয় অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মো. মজিবুল হক চুন্নু, নরসিংদী জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ আলী ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হাসান ও সদস্য আবু সাঈদ স্বপন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেনা খান, চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী প্রমুখ।