প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী পালন করেন বিএনপির একাংশের নেতা–কর্মীরা। আজ রোববার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুনিয়াউটে বিএনপি নেতা খালেদ হোসেন মাহবুবের বাসায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী পৃথকভাবে উদ্‌যাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের দুই পক্ষের নেতারা। আজ রোববার বিকেলে জেলা শহরের দুটি স্থানে পৃথকভাবে এই আয়োজন করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটি ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হকের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বড় একটি অংশ এক পক্ষে। তাঁরা দুজনই জেলা বিএনপির ৩২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। আহ্বায়ক আবদুল মান্নান ও সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেক পক্ষ সক্রিয়। প্রায় দুই বছর ধরে উভয় পক্ষ পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছে।

আজ বেলা তিনটার দিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে গরিব ও দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুল মান্নান, সদস্যসচিব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকী, সদস্য ও জেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাবেক কমিশনার মো. কাউসার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আরমান, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহীনুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত হননি, সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।

এদিকে আজ বিকেল পাঁচটার দিকে জেলা শহরের পুনিয়াউট এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক–বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব ওরফে শ্যামলের বাসায় জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাফিজুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে ও জহিরুল হকের সঞ্চালনায় জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শফিকুর রহমান, গোলাম সারোয়ার, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম মমিনুল হক, সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সালাউদ্দিন, যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব সালাউদ্দিন মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

খালেদ হোসেনের বাসায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন পুনিয়াউট জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুখলেছুর রহমান।

পরে সেখানে মিষ্টি বিতরণ করে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়।