প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
![]() |
সাতক্ষীরায় জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মা-বোনেরা ঘরে সুরক্ষিত থাকবে, কর্মস্থলেও সুরক্ষিত থাকবে। তাদের দিকে কেউ চোখ তুলে তাকাতে পারবে না। আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় যে, আমরা ক্ষমতায় আসলে নারীদের ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হবে না। কিন্তু কথা দিচ্ছি এমন হবে না।’
শনিবার বিকালে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘মহানবী (স.) সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও নারীদের যুক্ত করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের যুক্ত করেছেন। তাই আমরা তাদের আটকে রাখার কে? তারা সামর্থ্য অনুযায়ী দেশের জন্য আত্মনিয়োগ করবে। তাদের পোশাক নিয়ে আমরা বাধ্য করবো না। তারা ইচ্ছেমতো পোশাক পরতে পারবে। আমরা এমন দেশ তৈরি করতে চাই, নারীরা মর্যাদার জন্য নিজেরাই পর্দা তৈরি করবে। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে মসজিদ-মন্দির, মঠ-গির্জা কোনোকিছুই পাহারা দেওয়া লাগবে না। আমাদের দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার বাগান। এই বাগানে মাঝেমধ্যে হুতুম প্যাঁচা ঢুকে পড়ে। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
জাতীয় স্বার্থে সবকিছুর ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করবে জামায়াত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। দেশের আকাশে কালো শকুন দেখা যাচ্ছে। তাদের কোনোরকম সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আল্লাহ এবং মানুষের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই জমিনে ইনসাফ কায়েম করতে চাই। যেখানে মানুষ চাইলেও অধিকার পাবে, না চাইলেও অধিকার পাবে। আমরা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা সুষম উন্নয়ন মানুষকে উপহার দিতে চাই। কোনও এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে না। সকল এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন করবো। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যে বাংলাদেশের লাখ লাখ বেকার যুবকের মিছিল হবে না। যুবকরা সম্পদে পরিণত হবে। শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ামাত্র তাদের হাতে কাজ তুলে দেওয়া হবে। এমন শিক্ষা এবং জাতি চাই। সেই শিক্ষা অবশ্যই নৈতিক, দুনিয়া ও জাগতিক সমন্বয়ে হতে হবে। মানুষ যেন শিক্ষা পেয়ে মানুষ হয়। শিক্ষা নিয়ে যেন ডাকাত না হয়। এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা আমরা গড়ে তুলতে চাই।’
একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীও ভিআইপি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা তিন দিন পরিষ্কার না করলে আমরা ঘর থেকে বের হতে পারবো না। তাই তাদেরও মর্যাদা দিতে হবে। সেই সম্প্রীতির বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। আমরা জাতীয় স্বার্থে দল ও ধর্মের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করতে চাই। এই দেশকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দেশ বানাতে চাই। কিন্তু আকাশে কালো শকুন ঘুরছে। এই শকুন মাঝেমাঝেই ফুঁস করছে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। যে যে যেভাবেই উসকানি দিক, আমরা ফাঁদে পা দেবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দেশ। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনও ধর্মীয় উপাসনালয়ে পাহারা দেওয়া লাগবে না। সম্প্রীতির এই সুন্দর বাগানে মাঝেমধ্যে হুতুম প্যাঁচা ঢুকে পড়ে। বাংলার সুন্দর আকাশে মাঝেমধ্যে শকুনেরও দৃষ্টি পড়ে।’
এর আগে, সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা সম্মেলনস্থলে আসতে থাকেন। দুপুর হতে না হতেই কানায়-কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ।
সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য রবিউল বাসার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, জেলা সেক্রেটারি গাজী আজিজুর রহমান প্রমুখ।