![]() |
প্রতিপক্ষের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পাবনার ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্তত ৩৫টি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দুপুর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার কামালপুর ও সাহাপুরের চরগড়গড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, নির্বাচনী বিরোধ ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার জের ধরে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী তরিকুল ইসলাম শেখ চরের জমি দেখতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মেম্বারের পক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত তরিকুলকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরিকুল হামলাকারীদের নাম প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বজন ও দলীয় লোকজন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গেলেও সশস্ত্র লোকজনের বাধার কারণে আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে র্যাব-১২ এর সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইদুল ইসলাম দাবি করেন, 'ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় হামলা, লুটপাট এবং মানুষকে উৎখাত করেছে। তিনি বলেন, চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের লোকজন তরিকুলের ওপর হামলা চালিয়েছে।'
আওয়ামী লীগ নেতা তরিকুল ইসলাম মেম্বার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমরা ৫ আগস্টের পর থেকেই গৃহবন্দি। চরের জমি বিএনপি নেতা সাইদুল প্রামানিক ও কুষ্টিয়ার মুকুল গ্রুপ দখল করে নিয়েছে। মুকুল গ্রুপই তরিকুল শেখকে কুপিয়েছে। অথচ আমাদের ওপর দায় চাপিয়ে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।'
ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, 'অতর্কিত হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।'