প্রতিনিধি ঈশ্বরদী, পাবনা

ঈশ্বরদী সরকারি ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ছুটি শেষে বাড়ি ফিরছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

পাবনার ঈশ্বরদীতে গত ৯ মাসে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আটজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে, যা সবাইকে হতবাক করেছে।

ঈশ্বরদী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির তথ্য অনুযায়ী, ঈশ্বরদী সরকারি ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের আটজন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এছাড়া, দুর্ঘটনাগুলোতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন, যা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের মাঝে দুঃখের ছায়া ফেলেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সূত্রে জানা গেছে, ৪ জুলাই রাত ৯টার দিকে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের পাবনা সুগার মিলের সামনে একটি প্রাইভেটকার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচজন নিহত হন, এবং তাদের মধ্যে চারজন টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিলেন। নিহতদের মধ্যে আছেন—জিহাদ হোসেন (১৭), শাওন হোসেন নূর (১৭), শাওন হোসেন সিফাত (১৭) ও রিয়াদুল ইসলাম শিশির (১৮)। তাদের অকাল মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি।

এর আগে, ১৬ মার্চ ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোকুলনগর এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হন এবং একজন আহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র মিজানুর রহমান মিজান।

এছাড়া, ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর পরীক্ষা দিতে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে আসার পথে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের বহরপুর এলাকায় মোটরসাইকেল ও করিমনের মধ্যে সংঘর্ষে ছাত্র মিতুল হোসেন (১৬) ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত দুইজন, বিশাল হোসেন (১৬) ও সিয়াম হোসেন (১৬), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান, যা পুরো স্কুলের জন্য একটি বড় ধাক্কা।

এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আটজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু শিক্ষকদের ও শিক্ষার্থীদের মনে গভীর দাগ ফেলেছে। সবাই বলছেন, এসব মৃত্যু সহ্য করার মতো নয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং তারা নিরাপদে চলাফেরার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেছে।

টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, “৪ জুলাই সুপার মিলের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই তার সহপাঠী ছিল। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর এবং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।”

অভিভাবক ওবাইদুর রহমান বলেছেন, "ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আটজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে, যা আমাদের সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই অকাল মৃত্যুগুলো আমাদের পরিবার ও সমাজের জন্য গভীর দুঃখের কারণ। আমাদের সন্তানরা ভবিষ্যতের প্রতীক, তাদের মৃত্যু সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন। আমি আবেদন জানাই, যেন প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলাফেরার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অভিভাবককে এমন দুঃখ সহ্য করতে না হয়।"

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইছাহক আলী দুলাল জানিয়েছেন, "গত কয়েক মাসে এই প্রতিষ্ঠানের আট শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। শিক্ষার্থীদের মৃত্যু খুবই দুঃখজনক এবং এটি তাদের পরিবারের জন্য একটি বড় ক্ষতি।"

টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের নিরীক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “নিহতরা নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী যেন না মারা যায়, সেজন্য তিনি সতর্কভাবে চলাচলের পরামর্শ দেন।”

তিনি আরও জানান, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কর্মশালা ও সচেতনতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে।”

এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, "আমরা সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। শিক্ষার্থীদের সড়কে সতর্কভাবে চলাফেরার জন্য আরও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। আমরা আশা করি, সকলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।"