রাজশাহীতে আইপিএল খেলাকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে অনলাইন জুয়া, গ্রেপ্তার ৫

মঙ্গলবার রাতে নগরে এয়ারপোর্ট থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে এই পাঁচজনকে আটক করা হয় | ছবি: সংগৃহীত

প্রতিনিধি রাজশাহী: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) খেলাকে কেন্দ্র রাজশাহীতে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। মঙ্গলবার রাতে নগরে এয়ারপোর্ট থানাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নগরের এয়ারপোর্ট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন এয়ারপোর্ট থানাধীন তকিপুর মধ্যপাড়া এলাকার নসিমের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওরফে ওয়াসিম (৩৩), লক্ষ্মীপুর এলাকার মৃত সাদেক আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম মুন্না (৩৪), মোল্লাপাড়া এলাকার রইসের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৫), কাটাখালীর শ্যামপুরের খবির আলীর ছেলে আবদুল হাকিম (৩৬) ও কাশিয়াডাঙ্গা নগরপাড়ার ফজলুল হকের ছেলে তারভির ইসলাম সোহাগ (৩৫)।

রাজশাহী অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে অনলাইন জুয়াড়িদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে রাজশাহীতে তদন্ত করা হচ্ছিল। পরে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা থেকে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের একটি দল রাজশাহীতে আসে। পরে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ঢাকা ও রাজশাহী ইউনিট যৌথভাবে রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পরে রাতে আইপিএলের খেলা শুরু হলে জুয়ার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়। পরে ওই ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও দুজনকে আটক করা হয়। জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন অনলাইন  অ্যাপস ব্যবহার করে অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়া খেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। তাঁদের আটকের সময় জুয়া খেলায় ব্যবহৃত ৯টি মুঠোফোন, ১ লাখ ১৭ হাজার ২০০ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড টেলিভিশন ও রাউটার  জব্দ করা হয়েছে।

রাজশাহী অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল হাসান ইবনে রহমান বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজনকে পাওয়া গেছে, যাঁরা গতকাল রাতের আইপিএল ম্যাচকে কেন্দ্র করে অনলাইন জুয়ায় জড়িত ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে জুয়ার টাকা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার করেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন জুয়ায় জড়িত। তাঁর জুয়া খেলার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। এ ঘটনায় এয়ারপোর্ট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান হোসেন বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ওই পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।