রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পেছনে ‘রাজনৈতিক সমীকরণ’ আছে কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে: খেলাফত মজলিস
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন মানুষের মনে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। একই সঙ্গে দলটি বলেছে, শুধু পদত্যাগের মাধ্যমেই মো. সাহাবুদ্দিনের দায় শেষ হয় না; তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ করে দ্রুত তাঁকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মামুনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর থেকেই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদে থাকার নৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছিলেন। সে সময় থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, আন্দোলনের অংশীদার এবং খেলাফত মজলিস তাঁর পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এ দাবির পক্ষে অবস্থান না নিয়ে তাঁকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখার সুযোগ তৈরি করেছিল। পরে দলটি অবস্থান পরিবর্তন করলে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। এ কারণে তাঁর পদত্যাগের পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ রয়েছে কি না, সে প্রশ্ন মানুষের মনে দেখা দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ নিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনের এক মুখে দুই ধরনের বক্তব্য রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা ও সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
খেলাফত মজলিসের নেতারা দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, সংবিধান লঙ্ঘন এবং বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এস আলম গোষ্ঠী সম্পর্কিত ব্যাংক খাতের অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সহযোগিতার অভিযোগেরও নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্ত হওয়া দরকার।
সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেন, দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং ন্যায়বিচার চায়। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।